কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন (২৩) ও তার মা তাহমিনা বেগমকে (৫২) হত্যার ঘটনায় এক সন্দেহভাজনকে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। আটক ব্যক্তি আবদুর রব (৭৩), তিনি পেশায় কবিরাজ।
আজ সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলা থেকে তাকে আটক করা হয়। বিকেল পৌনে চারটার দিকে র্যাব-১১ সিপিসি-২ কুমিল্লার কোম্পানি অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে আবদুর রব (৭০) নামে এক ঝাড়ফুঁক কবিরাজকে আটক করা হয়েছে। তিনি জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার রায়কোট উত্তর ইউনিয়নের শরীফপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ নিহত তাহমিনা বেগমের সাথে মোবাইল ফোনে ওই কবিরাজের কথা হয়েছে। এছাড়া নিহতরা মাঝেমধ্যে ওই কবিরাজের নিকট চিকিৎসা সেবা নিতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, পৃথক অভিযানে আরেকজনকে আটক করেছে পুলিশ। সহকুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান সাংবাদিকদের বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষন করে আমরা সন্দেহভাজন একজনকে আটক করেছি, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে তার নাম-ঠিকানা বলা যাচ্ছে না। ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।
তিনি আরও জানান, আমরা বেশ কয়েকটি ক্লু নিয়ে কাজ করছি। পুলিশ ছাড়াও পিবিআই, গোয়েন্দা পুলিশ ও র্যাব এ ঘটনা তদন্তে কাজ করছে। সহসাই কিলারদের গ্রেপ্তার ও ঘটনার প্রকৃত রহস্য জানাতে পারবো বলে আশা করছি।
কীভাবে ঘটনা প্রকাশ পায়
রোববার রাতে নিহত তাহমিনার দুই ছেলে ঢাকায় থেকে কুমিল্লায় ফেরেন। বড় ছেলে তাজুল ইসলাম প্রথমে বাসায় গিয়ে দরজা আধাখোলা অবস্থায় পান। ভেতরে ঢুকে আলাদা দুই কক্ষে মা ও বোনের নিথর দেহ দেখতে পান। পরে ৯৯৯-এ কল করে পুলিশে খবর দেন।
পরিবার ও পুলিশের বক্তব্য
নিহতদের স্বজনেরা জানিয়েছেন, পরিবারটির কারও সঙ্গে শত্রুতা ছিল না। তবে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে তাদের ধারণা। কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে তাঁদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। মেয়েটির গলায় দাগ এবং মায়ের একটি চোখ রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
সিসিটিভি ফুটেজে রহস্যময় ব্যক্তি
ভবনের নিচতলার সিসিটিভি ফুটেজে রোববার সকালে টুপি, পাঞ্জাবি–পাজামা পরিহিত এক ব্যক্তিকে বারবার বাসায় যাতায়াত করতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, আটক আবদুর রবই সেই ব্যক্তি। বিষয়টি যাচাই করছে র্যাব।
শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ
হত্যার খবর পেয়ে সুমাইয়ার সহপাঠী ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। তারা খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানান।

