নিরাপদ ক্যাম্পাস ও প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশনে চবি শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৯:২৩

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয় দুর্বৃত্তদের হওয়া হামলার ঘটনার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তার বিষয়ে ব্যর্থতার দায় দিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচির পাশাপাশি ক্রমাগত নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টর অফিসের সম্মুখেই নিরাপদ ক্যাম্পাস ও প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ সহ ৭ দফা দাবিতে আমরণ অনশন করছে বিশ্ববিদ্যালয়টির ৯ শিক্ষার্থী। 

শিক্ষার্থীদের দ্বারা উত্থাপিত ৭ দফা দাবি সমূহ হল:

১/ আহত শিক্ষার্থীদের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা প্রদান। 

২/ নিরাপত্তাহীন অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য অবিলম্বে মান-সম্মত ভ্রাম্যমাণ আবাসনের ব্যবস্থা করা এবং আবাসনচ্যুত শিক্ষার্থীদের মালামাল উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা। 

৩/ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘিরে বিশেষভাবে চিহ্নিত শিক্ষার্থীদের সকল প্রকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। 

৪/ সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং নিরপরাধ এলাকাবাসীদের হয়রানি বন্ধ করা। 

৫/ বৈপরীত্য মূলক দ্বন্দ্ব সংঘাত নিরসনে উভয় পক্ষের অন্তর্ভুক্তিমূলক সমন্বয় কমিটি গঠন করা এবং নূন্যতম তিন মাস পর পর মিটিং করা। 

৬/ সিন্ডিকেট কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত এবং নিরাপদ ক্যাম্পাসের রোডম্যাপ প্রকাশ ও বাস্তবায়ন করা। 

৭/ শিক্ষার্থী আহতের ঘটনায় প্রশাসনের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে নিয়ে প্রক্টরিয়াল বডিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করতে হবে। 

এ বিষয়ে অনশনরত বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঈশা দে জানান, গত ৩০ এবং ৩১ আগস্ট স্থানীয় এবং শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়েছে এই দায় আসলে অধিকাংশই পরে প্রশাসনের ওপরে। সেই জায়গায় আমরা প্রশাসনের কাছে সাত দফা দাবি নিয়ে গিয়েছি কিন্তু এই দাবি দাওয়া নিয়ে প্রশাসনের উদ্বেগ আমরা দেখিনি। যেটা আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে। কারণ এইভাবে ভবিষ্যতে যদি সংঘর্ষ বা বিবাদ চলতেই থাকে তাহলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা কোথায়, এইটাই আমাদের ভাবনার বিষয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা কিছু দাবি-দাওয়া নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রশাসনকে জানান দেওয়ার চেষ্টা করেছি, সেই জায়গায় আমরা বাধ্য হয়ে আজকে চূড়ান্ত কর্মসূচি হিসেবে আমরা আমরণ অনশন ঘোষণা করেছি। তিনি আরও বলেন, আমরা যতক্ষণ না এই ৭টা দাবি-দাওয়ার কোন সুষ্ঠু বাস্তবায়ন হচ্ছে ততক্ষণ আমরণ অনশন চালিয়ে যাব।

এ বিষয়ে অনশনরত বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের মধ্যে ওমর সমুদ্র জানান, আমরা আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এখান থেকে উঠবো না। হয় মরবো না হয় দাবি আদায় করেই ফিরবো। যে বিষয়টা নিয়ে আমরা সব থেকে বেশি কনসার্ন সেটা হলো আমাদের নিরাপত্তা। এই প্রক্টরিয়াল বডি বার বার আমাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। হামলা ঠেকাতে তো তারা ব্যর্থ হয়েছেই হামলা পরবর্তী রক্তপাত কমাতেও এই প্রক্টরিয়াল বডি ব্যর্থ হয়েছে। এবং তার আগেও যে গুপ্ত হামলাগুলো হয়েছে ক্যাম্পাসে, সেই গুপ্ত হামলার বিচারও আমরা দেখিনি। এরকম একটি অদক্ষ আনফিট দল কানা প্রক্টরিয়াল বডির কাছে আমাদের নিরাপত্তা ইস্যুটা কনসার্নের জায়গায় সব সময় থেকেই যায়। তাই প্রক্টরিয়াল বডি পদত্যাগ সহ আমরা যে সাত দফা দাবি করেছি সেটি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের আমরণ অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাব। 

এর আগে, গত ৩০ ও ৩১ আগস্ট স্থানীয় দুর্বৃত্তদের দ্বারা ক্রমাগত হামলার শিকার হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রায় ১৫০০ শিক্ষার্থী হতাহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আহতদের মধ্যে ইট-পাটকেলের আঘাতে আহত সহ ধারালো অস্ত্রের কোপেও আহত হয়েছেন অন্তত শতাধিক শিক্ষার্থী এবং আরও ৩ শিক্ষার্থী রয়েছে মরণাপন্ন পরিস্থিতিতে। এছাড়াও সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়টির উপ-উপাচার্য ও প্রক্টর সহ আরও একাধিক নিরাপত্তা কর্মী আহত হয়েছে। মূলত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়টির এক নারী শিক্ষার্থী তার ভাড়া ফ্ল্যাট বাসায় প্রবেশ করতে গেলে তাকে মারধর করে বাসাটির দারোয়ান। এবং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয়দের হামলার সূত্রপাত।

ইত্তেফাক/এএইচপি