ডিএমটিসিএল কর্মচারীদের স্বচ্ছ সার্ভিস রুল প্রণয়নের দাবি

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০১:৪৭

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) কর্মচারীরা সুসংগঠিত ও স্বচ্ছভাবে সার্ভিস রুল প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, খসড়া সার্ভিস রুলে প্রকল্পের অস্থায়ী কর্মচারীদের স্থায়ী করার জন্য একটি বিতর্কিত ‘বিশেষ বিধান’ রাখা হয়েছে, যা নিয়মিত কর্মচারীদের স্বার্থের পরিপন্থী এবং প্রচলিত আইন ও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সাংঘর্ষিক।

২০১৩ সালে ডিএমটিসিএল গঠিত হলেও দীর্ঘ ১১ বছর পরও প্রতিষ্ঠানের জন্য কোনো স্বতন্ত্র সার্ভিস রুল তৈরি হয়নি। এই অনিশ্চয়তা কর্মচারীদের মধ্যে তৈরি করেছে ব্যাপক অসন্তোষ ও হতাশা। জানা গেছে, ২০১৯ সালে একটি খসড়া প্রণয়ন করা হলেও প্রকল্পের জনবলের অদৃশ্য চাপের কারণে তা চূড়ান্ত রূপ পায়নি।

কর্মচারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার স্মারকলিপি জমা দিলেও কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপদেষ্টা ডিএমটিসিএলকে দ্রুত সার্ভিস রুল প্রস্তুত ও অনুমোদনের নির্দেশ দেন। এরপর গত ৩ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানের ৬০তম বোর্ড সভায় ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত নীতিমালা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু সে সময়সীমা পার হয়ে গেলেও সার্ভিস রুল প্রণয়ন না করায় কর্মচারীরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হন। বর্তমানে কর্তৃপক্ষ এক মাসের মধ্যে সার্ভিস রুল প্রণয়নের আশ্বাস দেওয়ায় আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে।

আন্দোলনকারী নিয়মিত কর্মচারীরা তাদের প্রধান আপত্তি জানান খসড়ার একাদশ অধ্যায়ে থাকা 'বিশেষ বিধান'-এর বিরুদ্ধে। তাদের দাবি, এই বিধান অনুযায়ী প্রকল্পের অস্থায়ী কর্মচারীদের স্থায়ী জনবল কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করে তাদের প্রকল্পে যোগদানের তারিখ থেকে কর্মকাল গণনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও বিধিবিরোধী। তারা আশঙ্কা করছেন, এই বিধান কার্যকর হলে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীদের পদোন্নতির পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে।

নিয়মিত কর্মচারীরা তাদের দাবির সমর্থনে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একটি রায় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্মারকের উল্লেখ করেন। সুপ্রিম কোর্টের সিভিল আপিল নম্বর ৪৬০/২০১৭-এর রায়ে উন্নয়ন প্রকল্পের জনবলকে রাজস্ব খাতে স্থায়ী করাকে ‘ব্যাক ডোর অ্যাপয়েন্টমেন্ট’ বা পেছনের দরজা দিয়ে নিয়োগ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্মারক অনুযায়ী, প্রকল্পের মেয়াদ শেষে অস্থায়ী কর্মচারীদের নিয়োগপত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যাহতিপত্র হিসেবে গণ্য হবে।

এই 'বিশেষ বিধান' বাতিল ও দ্রুত আইনসম্মত সার্ভিস রুল প্রণয়নের দাবিতে ডিএমটিসিএলের স্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ কর্তৃপক্ষ ও পরিচালনা পর্ষদের কাছে লিগ্যাল নোটিশও পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ইত্তেফাক/এএম