দেড় বছর ধরে টাকা পাচ্ছেন না বয়স্ক ভাতার শতাধিক কার্ডধারী

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৯, ২১:২৩

বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা প্রাপ্ত হয়েও দেড় বছর ধরে একাউন্ট জটিলতায় টাকা পাচ্ছেন না নরসিংদীর পলাশের ঘোড়াশাল পৌর এলাকার প্রায় দেড় শতাধিক ভুক্তভোগী মানুষ। শনিবার সকালে ঘোড়াশাল পৌর অডিটরিয়ামে পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডের ৫৫০ জন ভাতা প্রাপ্তদের ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য এনআরবিসি ব্যাংক নরসিংদীর শাখা কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত হন। সেখানে অ্যাকাউন্ট খুলতে গিয়ে নানা হয়রানির শিকার হয়েছে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ডপ্রাপ্ত প্রায় দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ।

সরেজমিনে গেলে ভাতাপ্রাপ্তরা অভিযোগ করে জানান, ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য আজ আমাদের উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে জানানো হয়। এখানে আসার পর ব্যাংক হিসাব খুলতে গিয়ে বই জমা দিলে আমাদেরকে ব্যাংকের লোকজন বলেন, সমাজসেবা অফিসের দেওয়া এমআইএস নম্বর ভুল, তাই আমাদের ব্যাংক হিসাব খোলা সম্ভব নয়।

ঘোড়াশাল পৌর কাউন্সিলর শহিদুল হক রোমেল জানান, ব্যাংক আর সমাজসেবা অফিসের লোকজনের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে ভাতাপ্রাপ্ত নারী-পুরুষ ব্যাপক হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তারা একে অপরকে দোষারোপ করছে। এ কারণে অনেক ভুক্তভোগীই ভাতাপ্রাপ্ত হয়েও কোনো টাকা তুলতে পারছেন না।

ঘোড়াশাল পৌর মেয়র শরিফুল হক জানান, শনিবার সকালে সরেজমিনে গেলে আমার কাছেও অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন। উপজেলা সমাজসেবা অফিসের লোকজনের খামখেয়ালির কারণে ভাতা প্রাপ্তরা নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছে।

এনআরবিসি ব্যাংক নরসিংদী শাখার কর্মকর্তা হাসান মাহমুদ জানান, অধিকাংশ ভাতাপ্রাপ্ত এনআইসি নম্বর ভুল থাকার কারণে আমরা তাদের ব্যাংক হিসাব খুলতে পারছি না। তিনি আরো জানান, উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে ভুক্তভোগী ভাতা-প্রাপ্তদেরকে ভুল এমআইসি নম্বর দেওয়া হয়েছে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই।

পলাশ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, ভাতাপ্রাপ্তদের এমআইসি নম্বরের কোনো ভুল নেই। আমরা সঠিকভাবে এনআইডি নম্বর দিয়ে এমআইসি নম্বর দিয়েছি।