রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, মাজারে হামলা ও ভাঙচুর, সম্পদ লুটপাট, কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন ও পুড়িয়ে ফেলাসহ হত্যার ঘটনায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলায় এ পর্যন্ত মোট ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শরীফ আল রাজীব। এর আগে পৃথক অভিযানে ফরিদপুর থেকে মাওলানা আবু সাঈদ ও ঢাকার নাখালপাড়া থেকে রাসেল শেখকে নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে গোয়ালন্দ ঘাট থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বিকেলে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে ভাষ্য পুলিশের।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে মাওলানা মো. আবু সাঈদ (৪৫) গোয়ালন্দ বড় মসজিদের ইমাম ও উপজেলার অম্বরপুর গ্রামের আব্দুল জলিল শেখের ছেলে এবং মো. রাসেল শেখ গোয়ালন্দ পৌর ২ নম্বর ওয়ার্ডের দেওয়ানপাড়া গ্রামের কুদ্দুস শেখের ছেলে।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শরীফ আল রাজীব জানান, পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর মামলায় ১৬ জন এবং রাসেল হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে অপু, বিল্লু, সোহান সরদার, অভি মন্ডল রঞ্জু, মাওলানা আব্দুল লতিফ, মাওলানা আবু সাঈদ ও রাসেল শেখ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এর আগে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, মাজারে হামলা ও ভাঙচুর, সম্পদ লুটপাট, কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন ও পুড়িয়ে ফেলাসহ হত্যার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে একটি মামলা দায়ের করেন নিহত রাসেল মোল্লার বাবা আমজাদ মোল্লা। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর রাতে নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলের দরবারে হামলার সময় পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে গোয়ালন্দ ঘাট থানার উপ-পরিদর্শক সেলিম মোল্লা বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা করেন। এতে করে দুটি মামলায় সাড়ে ৭ হাজার অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
এ পর্যন্ত পুলিশের দায়েরকৃত মামলায় ১৬ জন এবং রাসেল হত্যা মামলায় ৮ জনসহ মোট ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৩ আগস্ট মারা যান নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগল। এরপর তার ভক্তরা দরবারের ভেতরে তাকে কবর দেন এবং কবরের উপরের ১০-১২ উঁচু একটি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। নির্মাণ করা স্থাপনাটি মক্কায় অবস্থিত কাবা শরীফের মতো দেখতে এমন অভিযোগ তুলে আপত্তি জানায় স্থানীয়দের একাংশ।
এ নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পরে ৫ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের পর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় শত শত মানুষ একটি 'দরবার শরিফে' হামলা চালায় এবং নুরাল পাগলার মরদেহ কবর থেকে তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নুরাল পাগলার অনুসারী ও 'ঈমান-আকিদা রক্ষা কমিটি'র ব্যানারে স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে একজন নিহত ও সাংবাদিকসহ ২২ জন আহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীরা ইউএনও, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসির গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় পাথর নিক্ষেপ ও মারধরে পাঁচ পুলিশ সদস্য ও দুই প্রশাসনিক কর্মকর্তা আহত হন।

গোয়ালন্দে মাজারে হামলার ঘটনায় মসজিদের ইমামসহ গ্রেপ্তার ১৮