গান দিয়েই শুরু করলেন বাংলা লোকগানের গুরু শুভেন্দু মাইতি। ‘স্বপ্ন দেখার সাহস করো/ স্বপ্ন ছাড়া মানুষ বাঁচে নাকি/ স্বপ্ন ছাড়া কেমন করে গান গাইবে পাখি’। গান থামিয়ে বললেন, ‘স্বপ্ন দেখ হে, এটাই বেঁচে থাকার বীজমন্ত্র’। ধানমন্ডির ছায়ানট সংস্কৃতি কেন্দ্রের প্রধান মিলনায়তনে ঘরোয়া আয়োজনে গানে কথায় শুভেন্দু মাইতি বললেন স্বপ্নই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। যার স্বপ্ন নেই তিনি বেঁচে থেকেও মৃত।
গতকাল শনিবার বৃষ্টিস্নাত বিকালে কৃষ্টি ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ‘বাংলা গানের পরম্পরায় গান গল্পে’ শীর্ষক আয়োজনে ওপার বাংলার কিংবদন্তি গণসংগীত শিল্পী শুভেন্দু মাইতি প্রায় দুঘণ্টা গানে কথায় মাতিয়ে রাখেন। কথা বলার মাঝে মাঝে শোনান তার প্রিয় সব গান। এসময় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কৃষ্টি ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বুলবুল মহলানবীশ ও সাধারণ সম্পাদক এনায়েত কবীর। এ আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার ছিল দৈনিক ইত্তেফাক।
গানের ফাঁকে ফাঁকে শুভেন্দু মাইতি নিজেকে পরিচয় করিয়ে দেন ‘বাংলা গানের মজুর’ বলে। তিনি বলেন, আমার গুরু বলেছিলেন গান বেচতে পারবি না। আমি সারাজীবন গান লিখেছি, সুর করেছি, গেয়েছি। কিন্তু গান বেচিনি কখনো।
শুভেন্দু মাইতির আলোচনায় উঠে আসে বাংলা গানের শক্তির কথা, বাঙালির একতাবদ্ধ হওয়ার কথা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রই বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির কেন্দ্রভূমি। তিনি বলেন, শেকড়ে পা রেখে বাংলাকে সারা বিশ্বে মেলে ধরতে হবে। রাষ্ট্র আজ ছিন্নভিন্ন আকাশ। কিন্তু চিন্তনের ক্ষেত্রে বিশ্বের ৩২ কোটি বাঙালিকে এক জায়গায় আসতে হবে। আর বাংলাদেশ হবে তার কেন্দ্র। বাংলাদেশই বাঙালির নিজস্ব বাসভূমি যা তারা লড়াই করে অর্জন করেছে।
রাজনৈতিক আন্দোলনে সাংস্কৃতিক কর্মীদের ভূমিকা প্রসঙ্গে শুভেন্দু মাইতি বলেন, উপমহাদেশে সামাজিক আন্দোলনের যে উচ্ছ্বাস রাজনৈতিক আন্দোলনের উচ্ছ্বাসের তুলনায় তা শ্লথতর। যারা সামাজিক কর্মী আমরা এতটা শক্তিশালী নই যে, মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী পালটে দিতে পারি। তাই, সাংস্কৃতিক কর্মীদের কাজ হচ্ছে বদলে দেবার ইচ্ছাটাকে মানুষের মাঝে জ্বালিয়ে রাখা।
তিনি বলেন, আকাশ কেনা হয়ে গেছে। আকাশের মালিকানা আছে কিন্তু মহাকাশের মালিকানা নেই। বাঙালিকে সেই মহাকাশে জায়গা নিতে হবে। জায়গা নিয়ে বিশ্বের সকল বাঙালিকে ওয়েব দুনিয়ার মধ্যে একত্রিত করতে হবে।
