নুরাল পাগলার দরবার থেকে চুরি হওয়া জেনারেটর উদ্ধার, যুবক গ্রেপ্তার

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৪:২৫

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরাল পাগলার দরবার থেকে জেনারেটর চুরি করার অভিযোগে মো. মিজানুর রহমান (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মো. শরীফ আল রাজীব এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে মিজানুরকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও গোয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশ।

মিজানুরের বাড়ি রাজবাড়ী সদর উপজেলার লক্ষ্মীকোল সোনাকান্দর গ্রামে।

পুলিশ জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর গোয়ালন্দের নুরাল পাগলার দরবারে বিক্ষুব্ধ জনতা হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় মিজানুর রহমান জেনারেটর চুরি করে নিয়ে যাচ্ছেন— এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মিজানুরকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। মিজানুরকে দরবারে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, লাশ পোড়ানো ও হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে রাজবাড়ীর আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে।

এ নিয়ে দুই মামলায় মোট ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

অতি‌রিক্ত পু‌লিশ সুপার শরীফ আল রাজীব বলেন, নুরাল পাগলার দরবার থেকে জেনারেটর চুরি করে নিয়ে যায় মিজানুর রহমান। আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখে বিষয়টি নিশ্চিত হই। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, নুরাল পাগলার দরবারে হামলায় ভক্ত রাসেল মোল্লা নিহতের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার জনকে আসামি করে মামলা করেন তার বাবা আজাদ মোল্লা। সোমবার রাতে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় দায়ের করা মামলায় হত্যাসহ অগ্নিসংযোগ, লাশ পোড়ানো, ক্ষতিসাধন, চুরি ও জখমের অভিযোগ আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ আগস্ট মারা যান নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগল। এরপর তার ভক্তরা দরবারের ভেতরে তাকে কবর দেন এবং কবরের উপরের ১০-১২ উঁচু একটি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। নির্মাণ করা স্থাপনাটি মক্কায় অবস্থিত কাবা শরীফের মতো দেখতে এমন অভিযোগ তুলে আপত্তি জানায় স্থানীয়দের একাংশ।

এ নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পরে ৫ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের পর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় শত শত মানুষ একটি 'দরবার শরিফে' হামলা চালায় এবং নুরাল পাগলার মরদেহ কবর থেকে তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নুরাল পাগলার অনুসারী ও ঈমান-আকিদা রক্ষা কমিটির ব্যানারে স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে একজন নিহত ও সাংবাদিকসহ ২২ জন আহত হন।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীরা ইউএনও, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসির গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় পাথর নিক্ষেপ ও মারধরে পাঁচ পুলিশ সদস্য ও দুই প্রশাসনিক কর্মকর্তা আহত হন।

সর্বশেষ এ ঘটনায় পুলিশ ও নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলায় সাত হাজার জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। এসব মামলায় এ নিয়ে মোট ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। 

ইত্তেফাক/এপি