ঘরের চাল কিংবা গাছের ঢালে দিন কাটছে গ্রামের মানুষের। চারদিকে থৈ থৈ পানি। গ্রামের সবাই পানিবন্দি। কোথাও যেতে হলে নৌকাই ভরসা। বেড়াবাড়ি গ্রামের মানুষের দিনরাত কাটছে এভাবেই। এ সময়ই তাদের পাশে এসে দাঁড়ালেন ৬৫ বছর বয়সী আবুল খন্দকার।
গ্রামটি অনেকটা দ্বীপের মতো। এর অবস্থান নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নে। সিংড়া উপজেলা সদর থেকে নৌকা যোগে এই গ্রামে যেতে সময় লাগে প্রায় এক থেকে দেড়ঘণ্টা। খাবার পানি থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় যেকোনো জিনিস কিনতে যেতে হয় সেখানেই। সবাই পানিবন্দি হওয়ার কারণে নৌকায় ছোট একটি দোকান করে গ্রামের বাড়ি বাড়ি বিভিন্ন প্রকার তৈজসপত্র পৌঁছে দিচ্ছেন আবুল খন্দকার।
তবে জীবিকানির্বাহের তাগিদে নয়, তিনি এটাকে দেখছেন জনসেবা হিসেবে। আবুল খন্দকার বলেন, ‘বন্যায় বেড়াবাড়িসহ ডুবে গেছে আশেপাশের গ্রামগুলো। গ্রামের শিশু, বৃদ্ধ, গৃহবধূদের কোনোকিছু কিনতে দোকানে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। তাই একটি নৌকায় ভ্রাম্যমাণ দোকান করে বাড়ি বাড়ি সেবা পৌঁছে দিচ্ছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘কাজ করে আমার সংসার চালাতে হয় না। ছেলেরা সংসারের ব্যয় বহন করে। নৌকায় দোকানটি আমার রুটিরুজির জন্য নয়, এটা জনসেবা। বন্যাকবলিত মানুষগুলোর জন্য এটুকু করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।’ তবে সদা হাস্যজ্জ্বল আবুল খন্দকারের চোখ-মুখে দেখা যায়নি কোনো ক্লান্তির ছাপ।
