তারাগঞ্জ উপজেলায় কাদাবন্দি হয়ে পড়েছে ইকরচালী ও হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। এতে তাদের জীবনযাত্রায় বিভিন্ন বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটিতে সামান্য বৃষ্টি হলেই শুরু হয় কাদা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালি ইউনিয়নের বরাতী ব্রিজ থেকে হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ী বাজার পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরত্ব এ রাস্তাটি (সড়কটি) দিয়ে চলাচল করে প্রায় ১০ গ্রামের ১০ হাজার মানুষ। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের উপজেলা সদরে প্রবেশের একমাত্র সহজ রাস্তা এটি। কিন্তু দীর্ঘদিন রাস্তাটির সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটিতে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। ফলে সৃষ্টি হয় হাঁটু সমান কাদা। রাস্তাটির মহাসড়ক থেকে বরাতী বাজার পর্যন্ত ১ কিলোমিটার পাকা হলেও বরাতী বাজার থেকে কাশিয়াবাড়ি বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তাটি কাঁচা থাকায় বর্ষা মৌসুম শুরু হলে এলাকাগুলোর লোকজন এক রকম কাদাবন্দি হয়ে পড়ে। ফলে তাদের জরুরি কাজে উপজেলা সদরে আসতে হলে হাড়িয়ারকুঠি ডাঙ্গিরহাট হয়ে বামনদীঘি দিয়ে ঘুরে আসতে হয়। এতে করে তাদের প্রায় ১১/১২ কিলোমিটার রাস্তা বেশি ঘুরতে হয়। ফলে দ্বিগুণ খরচের পাশাপাশি তাদের সময়ও নষ্ট হয় অনেক বেশি।
ইকরচালি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রবিউল ইসলাম রবি বলেন, আমার ওয়ার্ডের অধিকাংশ জনগণ এই রাস্তা দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদসহ উপজেলা সদরে যাতায়াত করে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মহাসড়ক থেকে বরাতী বাজার পর্যন্ত মাত্র ১ কিলোমিটার পাকা হলেও পুরো রাস্তাটিই কাচা পড়ে আছে। ফলে এলাকার জনগণ কাদাপানি পার হয়ে জরুরি কাজে বের হচ্ছে না। বরাতী উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ফিরোজা বলেন, রাস্তার কাদার জন্য স্যান্ডেল হাতে নিয়ে স্কুলে আসতে হয়। বরাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আবু হাসান জানায়, কাদার রাস্তায় পা পিছলে পড়লে বইখাতা নষ্ট হয়ে যায়।
জলুবর গ্রামের মোক্তার হোসেন বলেন, এই সরকার তো রাস্তাঘাটের ভালো উন্নয়ন করছে। কিন্তু আমাদের রাস্তাটি কেন জানি পাকা করে দিচ্ছে না, তা বুঝতে পারছি না। কাশিয়াবাড়ী এলাকার রিকশাভ্যান চালক আজহারুল ময়নুদ্দিন, সাহেব আলীসহ কয়েকজন বলেন, এ কাচা রাস্তা দিয়ে রিকশাভ্যান নিয়ে যেতে অনেক কষ্ট হয়। তারপরও রিকশা ভ্যানের বারোটা বাজে। হাড়িয়াকুঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ বাবুল বলেন, আমার তিন থেকে চারটি ওয়ার্ডের প্রায় ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার মানুষ তাদের বিভিন্ন প্রয়োজনে তারাগঞ্জ উপজেলাসহ তারাগঞ্জ সদর হাট-বাজারে ঐ রাস্তাটি দিয়ে যাতায়াত করে।
ইকরচালী ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টি হলে ঐ রাস্তাটিতে কাদাপানিতে একাকার হয়ে মানুষের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। আমার ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ ঐ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। তাদের কষ্টের কথা ভেবে গত উপজেলা সমন্বয় কমিটিতে বাকি অংশটুকু পাকা করার দাবি জানিয়েছি। এলজিইডির তারাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আহমেদ হায়দার জামান জানান, রাস্তাটির ১ কিলোমিটার অর্থাত্ রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের কাছ থেকে শুরু করে ১ কিলোমিটার পাকা করা হয়েছে। বাকি রাস্তাটিও পাকাকরণের তালিকায় আছে। বরাদ্দ পেলে পর্যায়ক্রমে পাকা করার পরিকল্পনা আছে।
