ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-তে কর্মরত প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কর্মকর্তা চাকরিচ্যুতির আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ‘বিশেষ দক্ষতা মূল্যায়ন পরীক্ষা (Special Competency Assessment Test)’-এর নামে গোপন ছাঁটাই প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে ব্যাংকের কর্মকর্তারা শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ জানান।
অভিযোগে বলা হয়, গত তিন মাসে কোনো নোটিশ ছাড়াই প্রায় ১২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করেছে কর্তৃপক্ষ। এখন নতুন করে আরও সাড়ে পাঁচ হাজার কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করার ‘নীলনকশা’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই পরীক্ষা আয়োজন করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ অমান্য করে পরীক্ষা!
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপকে ‘বেআইনি’ ও ‘প্রহসনমূলক’ আখ্যা দিয়ে কর্মকর্তারা বলেন, এই পরীক্ষা আয়োজনের বৈধতা নিয়ে মহামান্য হাইকোর্টে রিট (নং ১৩৯৭৪/২০২৫) করা হয়। হাইকোর্ট এ বিষয়ে রুল জারি করে বলে দেন, ‘দক্ষতা মূল্যায়ন পরীক্ষা’ নয়, প্রমোশনাল (পদোন্নতি) পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে।
তবুও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ (শনিবার ২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিতর্কিত পরীক্ষাটি নেওয়ার আয়োজন করে। কর্মকর্তারা একযোগে এই পরীক্ষা বয়কট করেন।
‘নিয়োগ পরীক্ষা চলছে’— তাহলে কি ছাঁটাইয়ের প্রস্তুতি?
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যেখানে দাবি করছে এটি দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা, সেখানে পরীক্ষাকেন্দ্রে ‘নিয়োগ পরীক্ষা চলছে, ভ্রাম্যমাণ আদালত কার্যকর রয়েছে’— এমন ব্যানার টানানো হয়। এতে কর্মকর্তাদের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে যে, এই পরীক্ষা আসলে ছাঁটাইয়ের পথ সুগম করার একটি চালাকি মাত্র।
সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তারা কয়েকটি প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তারা বলেন, আদালতের রুল বহাল থাকা অবস্থায় কীভাবে পরীক্ষা আয়োজন করা হলো? বাংলাদেশ ব্যাংক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা থাকলেও, তার আগেই (২২ সেপ্টেম্বর) ব্যাংক কীভাবে সার্কুলার দিল? কেন একমাত্র চট্টগ্রাম অঞ্চলের কর্মকর্তাদের টার্গেট করে এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে? আগে ১৪০০ জন অফিস সহায়ক ও গার্ড-কে এইচআর পলিসি লঙ্ঘন করে প্রমোশন দেওয়া হলেও, বছরের পর বছর কাজ করা কর্মকর্তাদের পরীক্ষার মাধ্যমে ছাঁটাইয়ের পথে নেওয়া হচ্ছে কেন?
স্পেশাল কম্পিটেন্সি পরীক্ষা বাতিল করার দাবি জানান কর্মকর্তারা। তাদের অন্যান্য দাবির মধ্যে ছিল আদালতের রুল পুরোপুরি মানতে হবে।প্রমোশনাল প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক হতে হবে। চাকরি সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
কর্মকর্তারা আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পর থেকে ব্যাংকে নিয়োগ ও প্রমোশনে বিচার-বিশ্লেষণহীন ও পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যা পুরো প্রতিষ্ঠানকে অনিশ্চয়তায় ফেলছে।
