ব্যাট উঁচিয়েই ড্রেসিংরুমে ফিরেছেন মুশফিকুর রহিম। প্রেমাদাসায় অভিবাদনও মিলেছে বেশ। কিন্তু এই ফেরার আনন্দে যোগ হতে পারত ক্যারিয়ারের অষ্টম ওয়ানডে সেঞ্চুরির অর্জন। মাত্র ২ রানের জন্য গতকাল সেঞ্চুরি বঞ্চিত হয়েছেন তিনি।
বঞ্চিত বলার চেয়ে মুশফিক ছেড়ে এসেছেন— বলাই ভালো। সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে ইনিংসের শেষ দুই বলে ৩ রান দরকার ছিল মুশফিকের। পঞ্চম বলে স্ট্রাইকে থাকলেও সিঙ্গেল নেন তিনি। অপরপ্রান্তে ছিলেন মুস্তাফিজ। অবলীলায় সিঙ্গেল না নিয়ে সেঞ্চুরির জন্য পরের বলে স্ট্রাইক নিতে পারতেন এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। এবং তা দৃষ্টিকটুও লাগত না। কারণ তিনিই তখন একমাত্র সেট ব্যাটসম্যান। এমন জায়গায় হয়তো যে কেউ সিঙ্গেলকে পাশ কাটিয়ে যেতেন। কিন্তু মুশফিক সেই পথে হাঁটেননি। মিস করেছেন সেঞ্চুরি। অপরাজিত থেকে যান ৯৮ রানে।
তার চেয়ে বড় কথা এই মঞ্চে আসার আগে ব্যাট হাতে মুশফিক যে অসামান্য লড়াইটা করেছেন তাতে সেঞ্চুরির গৌরব তার প্রাপ্য ছিল। প্রেমাদাসায় গতকালও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন। ১১৭ রানে নেই ৬ উইকেট! এমন বিভীষিকার মঞ্চে ত্রাতার ভূমিকায় ধরা দেন তিনি। শ্রীলঙ্কার সামনে প্রতিরোধের দেয়াল হয়ে ইনিংস জুড়ে ব্যাটিং করেছেন মুশফিক। তার অতুলনীয় লড়াকু ব্যাটিংয়েই গতকাল প্রেমাদাসায় সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৮ উইকেটে ২৩৮ রানের পুঁজি গড়তে সক্ষম হয়েছিল বাংলাদেশ।
নার্ভাস নাইনটিজের ঘরে মুশফিকের এটি চতুর্থবার থমকে দাঁড়ানো। তবে এবারই প্রথম অপরাজিত থাকলেন তিনি। এর আগে ৯৯, ৯৮, ৯০ ঘরে আটকেপড়া তিনটি ইনিংস ছিল তার।
ইউরোপে টানা আড়াই মাসের ক্লান্তিকর সফরের পর কয়েকদিনের বিশ্রামে শ্রীলঙ্কা সফরটা বাংলাদেশ দলের জন্য কঠিন পরীক্ষা হয়ে গিয়েছিল। ক্লান্ত, শ্রান্ত একটা দলের ছবি যেন বাংলাদেশ। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার মিছিল। ব্যাটিং দৈন্য প্রকট হয়ে উঠেছে। টপঅর্ডারে তামিম, সৌম্য, মিঠুন এবং মিডল অর্ডারে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ধারাবাহিকভাবে রানখরায় ভুগছেন। এর মাঝেই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ব্যাটিংয়ে যা কিছুটা লড়ছেন শুধু মুশফিক। টানা দুই ওয়ানডেতে তার হাফ সেঞ্চুরিতেই গোটা দলের মুখ রক্ষা হলো।
গতকাল টসজয়ী বাংলাদেশ ৫২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে সৌম্যকে (১১) দিয়ে শুরু। পরে উদানার বলে প্লেইড অন হন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তামিম (১৯)। টানা ৬ ওয়ানডেতে বোল্ড হলেন তিনি। মিড উইকেটে ক্যাচ অনুশীলন করিয়ে ফিরেছেন তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ের গুরুদায়িত্ব পাওয়া মিঠুন (১২)। মাহমুদউল্লাহ (৬), সাব্বির (১১), মোসাদ্দেক (১৩) দ্রুত ফিরলে ১১৭ রানে ৬ উইকেট পড়ে যায় বাংলাদেশের। বিশ্বকাপে নিজের ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে ড্রেসিংরুমে উত্তেজিত হয়ে পড়া মাহমুদউল্লাহ এই সফরেও রানখরার বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছেন। এমনকি তার ফিটনেস নিয়েও কানাঘুষা চলছে।
একপ্রান্ত আগলে সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিল দেখেছেন মুশফিক। সপ্তম উইকেটে মিরাজকে নিয়ে ৮৪ রানের জুটি গড়েন তিনি। তাদের জুটিই বিপদমুক্ত করে দলকে। ক্যারিয়ারের ৩৭তম হাফ সেঞ্চুরি করেন।
ইনিংসের ৪৬তম ওভারে মিরাজ ৪৩ রান করে আউট হন। তাইজুল (৩), মুস্তাফিজকে (২*) নিয়ে বাকি সময়টা লড়ে গেছেন মুশফিক। সেঞ্চুরি না পেলেও ইনিংসের শেষ পর্যন্ত লড়ে গেছেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। ১১০ বলে তার খেলা অপরাজিত ৯৮ রানের (ছয় চার, এক ছয়) ইনিংসটা নিশ্চিতভাবেই ওয়ানডেতে চাপের মুখে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের খেলা অন্যতম সেরা ইনিংসের কাতারে থাকবে। শ্রীলঙ্কার পক্ষে প্রদীপ, উদানা, আকিলা দুটি করে উইকেট নেন।
