সহজ ম্যাচ কঠিন করে জিতল বাংলাদেশ

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৫, ০১:২৫

১৫২ রানের মাঝারি লক্ষ্য তাড়ায় দারুণ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ১১ ওভার ৩ বলে কোনো উইকেট না হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ১০৯ রান জমা পড়ে। তখন জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ৪৩ রান, হাতে ১০ উইকেট।

এমন অবস্থা থেকে ম্যাচ হারার নজির টি-টোয়েন্টি ইতিহাসেই বিরল। অথচ আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে সেই লজ্জার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ।

শুরুর দারুণ ভিত্তির পর হঠাৎই বিপর্যয় নামে। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ম্যাচটা জটিল করে ফেলে টাইগাররা। শেষদিকে যখন চাপ চরমে, তখন দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে আসেন রিশাদ হোসেন ও নুরুল হাসান সোহান। দুজনের ১৮ বলে গড়া ৩৫ রানের জুটি বাংলাদেশের সম্ভাব্য বিপর্যয় ঠেকায় এবং দলকে এনে দেয় কাঙ্ক্ষিত জয়।

শেষ পর্যন্ত সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে রুদ্ধশ্বাস এক জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) আফগানিস্তানকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে টাইগাররা।

১৫২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশকে দারুণ শুরু এনে দেন তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন। ১০ ওভারে অবিচ্ছিন্ন উদ্বোধনী জুটিতে ওঠে ৯৫ রান। রশিদ খান ও মোহাম্মদ নবির মতো বিশ্বমানের স্পিনারদের বিপক্ষেও ছিলেন আত্মবিশ্বাসী।

তবে ১২তম ওভারে ১০৯ রানে এই জুটি ভাঙতেই ছন্দপতন ঘটে। ফরিদ আহমেদ ফিরিয়ে দেন পারভেজকে (৩৭ বলে ৫৪)। এরপর রশিদ খানের এক ওভারে ফিরে যান সাইফ হাসান ও তানজিদ (৩৭ বলে ৫১)। হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের টপ অর্ডার।

১৪তম ওভারে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে আভাস দিলেও জাকের আলী পরের ওভারে রশিদের শিকার হন। একই ওভারে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন শামীম হোসেনও। পরে তানজিম সাকিবকেও তুলে নেন নূর আহমেদ।

১১ ওভার ৩ বলে যেখানে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১০৯/০, সেখান থেকে ১১৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দলটি।

শেষ ৪ ওভারে দরকার ছিল ৩৪ রান, হাতে মাত্র ৪ উইকেট। চাপের মুহূর্তে উইকেটে এসে দায়িত্ব নেন রিশাদ হোসেন ও নুরুল হাসান সোহান। দারুণ বিচক্ষণতায় খেলে দলকে টেনে তোলেন তারা।

সোহান ১৩ বলে ২৩* রান করেন ২ ছক্কা ও ১ চারে। রিশাদের ব্যাট থেকে আসে ৯ বলে ১৪* রান। এই জুটির ১৮ বলে ৩৫ রানে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে আফগানিস্তান। নাসুম আহমেদ ও তানজিম সাকিবের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৪০ রানের মধ্যেই হারায় ৪ উইকেট। গুরবাজ ৪০ রান করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। নবির ২৫ বলে ৩৮ ও শরাফুদ্দিনের ১৬ রানে ভর করে দলটি পৌঁছে ১৫১ রানে।

বাংলাদেশের হয়ে রিশাদ নেন ২টি উইকেট, আর রশিদ খান আফগানিস্তানের হয়ে শিকার করেন ৪ উইকেট।

ইত্তেফাক/এএম