বিশ্বকাপ ফাইনাল পরবর্তী অপ্রত্যাশিত এক ঘটনার জেরে বড় শাস্তির মুখে পড়তে পারেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর উত্তেজনাকর পরিস্থিতির জন্ম দেওয়ায় ৩২ বছর বয়সী এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারকে ৯ ম্যাচ নিষিদ্ধ করার চিন্তা করছে ফিফা। তবে নিয়মের কিছু মারপ্যাচ বা আইনি ফাঁকফোকর গলে এই শাস্তি এড়ানোর সুযোগও রয়েছে তার সামনে।
গত ১৯ জুলাই নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষের পর স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের ওপর চড়াও হন বেশ কয়েকজন আর্জেন্টাইন ফুটবলার। এর মধ্যে সবচেয়ে আগ্রাসী ভূমিকায় দেখা যায় পারেদেসকে। টিভি ফুটেজে স্পষ্ট ধরা পড়ে যে, বোকা জুনিয়র্স তারকা স্পেনের এরিক গার্সিয়াকে লাথি মারছেন এবং গলা চেপে ধরেছেন। এরপর গাভিকে আছাড় মেরে মাটিতে ফেলে দেন তিনি। এই হাতাহাতিতে নাহুয়েল মলিনা, থিয়াগো আলমাদা ও সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাও জড়িয়ে পড়েছিলেন।
ম্যাচ শেষে বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন সাবেক ইংল্যান্ড স্ট্রাইকার অ্যালান শিয়ারার। ধারাভাষ্যে তিনি বলেন, “কোনো একজনের মুখে দুই বা তিনবার আঘাত করেছেন পারেদেস। এমন কিছুর জায়গা কোথাও নেই। হারের কষ্ট যে কী তা আমরা জানি। কিন্তু প্রতিক্রিয়া দেখানোর অন্য উপায় আছে। শেষ বাঁশি বাজার পর তাদের প্রতিক্রিয়া ভয়াবহ।”
প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গিয়েছিল রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ পারেদেসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখালেও পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে কোনো তাৎক্ষণিক শৃঙ্খলামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে বর্তমানে পুরো ঘটনাটি নিয়ে গভীর তদন্ত শুরু করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য মিরর-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফার আচরণবিধির ১৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই ধরনের সহিংসতায় জড়িত প্রত্যেকে প্রতি অভিযোগের জন্য ন্যূনতম তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ হতে পারেন। সেই হিসেবে তিনটি গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হলে পারেদেসের কপালে জুটতে পারে ৯ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা।
ফিফার এই কঠোর শাস্তি থেকে বাঁচার একটি উপায় হতে পারে পারেদেসের আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়া। নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলে জাতীয় দলের হয়ে এই নিষেধাজ্ঞা ভোগ করতে হবে না তাকে।
তবে এক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে ফিফা আচরণবিধির ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ। এই অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করা হলে কেবল জাতীয় দল নয়, বরং বৈশ্বিকভাবে সব ধরনের ফুটবল কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে এই মিডফিল্ডারকে। ২০১৪ সালে ইতালির জর্জিও চিয়েল্লিনিকে কামড় দেওয়ার অপরাধে লুইস সুয়ারেজকে এমনই বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।
যদিও ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা, সুয়ারেজের ঘটনার মতো অতটা চরম বা গুরুতর অপরাধ না হওয়ায় পারেদেসের ক্ষেত্রে ফিফা আর্টিকেল ৭০ প্রয়োগ নাও করতে পারে।
নিজের আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ ও চলমান পরিস্থিতি নিয়ে ম্যাচ শেষে পারেদেস মন্তব্য করেছিলেন, “আমি জানি না। এটা একটা প্রক্রিয়া। আপনাকে হজম করতে হবে, তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। এটা নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন।”
সব মিলিয়ে, কাঁধে ঝুলে থাকা এই লম্বা নিষেধাজ্ঞা লিয়ান্দ্রো পারেদেসের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি শেষ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

