তিনটি পৃথক র্যাগিংয়ের ঘটনায় আজীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তিপ্রাপ্ত সকলের শাস্তি প্রত্যাহার দাবিতে দ্বিতীয়-দিনের মতো বিক্ষোভ মিছিল করেছে শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর এলাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচি শেষে অর্থনীতি ও পরিসংখ্যান বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। যদি প্রশাসন দাবি মেনে না নেয় তাহলে, আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৭ তম সিন্ডিকেট সভায় ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের উপর র্যাগিংয়ের অভিযোগে অর্থনীতি বিভাগ ও পরিসংখ্যান বিভাগের পৃথক তিনটি ঘটনায় ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের অর্থনীতি বিভাগের একজনকে আজীবনসহ ১২জনকে এবং পরিসংখ্যান বিভাগের পাঁচ ছাত্রীসহ মোট ১৩জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থীদের ‘প্রহসনের বহিষ্কার মানি না, মানব না, সাস্টিয়ান সাস্টিয়ান এক হও এক হও, এক হও লড়াই কর, জাস্টিস জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস, প্রশাসনের স্বৈরাচারিতা মানিনা, মানব না ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।
কর্মসূচিতে সমাপনী অনুষ্ঠানের অর্থনীতি বিভাগের হাফিজুল ইসলাম বলেন, বর্তমান প্রশাসন, প্রক্টর শাবিপ্রবিতে নতুন ‘বহিষ্কার’ ‘বহিষ্কার’ নাটক নিয়ে আসছে। উনারা এই নাটকের স্ক্রিপ্ট কার কাছ থেকে লিখে নিয়ে আসছে জানি না। ডিবি হারুনের স্টাইলে তিনি (প্রক্টর) স্ক্রিপ্ট বানায়। একেক দিন একেক রকম বক্তব্য দেয়। আমরা এই নাটক দেখতে চাই না।
তিনি আরও বলেন, আপনারা তদন্তের কথা বলেন। তদন্তের নামে আপনারা প্রহসন করেছেন। যদি এই প্রহসনের বহিষ্কার প্রত্যাহার না করেন আমরা কঠিন থেকে কঠিন আন্দোলনের দিকে যাব।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিমের গণমাধ্যমে দেওয়া একটি বক্তব্যকে ইঙ্গিত করে হাফিজ বলেন, মহোদয় আমাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতিবাদকে ‘মব’ বলে আখ্যায়িত করেছে। এটা লজ্জার। উনি বলেছিলেন, খুন করার পর যদি মিটমাট হয় তাহলে কি শাস্তি হবে না? এখন দেখেন এখানে লাশ ও আছে খুনি ও আছে। লাশগুলো এখনো তার খুনিকে ভালোবাসে।
আন্দোলনে অংশ নিয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফয়সাল হোসেন বলেন, পুরনো একটি তুচ্ছ ঘটনাকে ইস্যু বানিয়েছে। বিচারের নামে একপ্রকার অবিচার করা হয়েছে। আমরা অতিদ্রুত এইটার একটা মীমাংসা দেখতে চাই।
এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম বলেন, এ বিষয়ে দুই বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের সাথে উপাচার্য ও আমার একটি বৈঠকে ভালো আলোচনা হয়েছে। ভুক্তভোগী ছাত্র-ছাত্রীরা যদি বিভাগীয় প্রধানদের পরামর্শের আলোকে আপিল করে তাহলে দ্রুতই পরবর্তী সিন্ডিকেটে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
