পত্নীতলায় আওয়ামী লীগ নেতা খুনের ঘটনায় আটক ৩

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৩৫

নওগাঁর পত্নীতলায় প্রবীণ রাজনীতিবিদ নজিপুর পৌর সভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইছাহাক হোসেন খুনের ঘটনায় ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হল- নজিপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মামুদপুর গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে কাউন্সিলর মো. আবুল কালাম আজাদ ওরফে লিটু ফকির (৪৫), তার বড় ভাই লোকমান হোসেন বেলাল (৪৮) ও মামুদপুর মধ্যপাড়া গ্রামের আয়নালের ছেলে আনিকুল (৪৫)। এদের মধ্যে আনিকুল গত ২০ বছর ধরে ইছাহাক হোসেনের বাড়িতে কেয়ারটেকারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

এ বিষয়ে পত্নীতলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, আওয়ামী লীগের সভাপতি ইছাহাক হোসেনের খুনের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোন মামলা করা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পৌর কাউন্সিলরসহ ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। খুনের ঘটনার রহস্য এখনও উন্মোচিত হয়নি। তবে এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আরও পড়ুন: জেলে না দিয়ে ছাত্রী উত্যক্তকারীর লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন ওসি

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে খুনিরা ইছাহাক হোসেনের বাসার কেয়ার টেকারকে বেঁধে রেখে তার শয়ন কক্ষে অবস্থান করে। রাত সাড়ে ৯টায় ইছাহাক হোসেন নজিপুর হতে মাইক্রোবাস যোগে নিজ বাড়ি পৌর সদরের মামুদপুর গ্রামে যান। নিজ শয়ন কক্ষে প্রবেশের সাথে সাথে সেখানে পূর্ব থেকেই ওঁত পেতে থাকা মুখোশধারী খুনিরা তার মাথা, গলা, পেট ও বুকে  উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। মাইক্রোবাসের চালক দুলাল চন্দ্র গাড়ি রেখে ভেতরে প্রবেশ করলে খুনিরা তাকেও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। দুলালের চিৎকারে ইছাহাক হোসেনের মেয়ে সিফাতে রাব্বানী পাশের বাড়ি হতে ছুটে এসে তার বাবা ও ড্রাইভারকে আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পায়। সিফাত রাব্বানীর চিৎকারে পাশের লোকজন ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে রাত ১০টায় পত্নীতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইছাহাক হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।

মরহুমের জানাযা বুধবার বিকেল ৪টায় নজিপুর পাবলিক মাঠে অনুষ্ঠান শেষে পারিবারিক গোরস্থানে লাশ দাফন করা হয়েছে। প্রবীণ রাজনীতিবিদ ইছাহাক হোসেনের খুনের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী দ্রুত অপরাধীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

ইত্তেফাক/বিএএফ