মামুনের শাস্তি প্রত্যাহারের দাবিতে শাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৫, ১৮:১৬

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) শাহপরাণ হলে অস্ত্র ও মাদক সম্পৃক্ততার অভিযোগে আজীবন বহিষ্কৃত লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মামুন মিয়ার শাস্তি প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে মানববন্ধন করা হয়।

মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে গিয়ে বিভিন্ন রকম স্লোগান দেন তারা। পরবর্তীতে তাদের একটি টিম উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিমের সাথে সাক্ষাৎ করে এই বিষয়ে অবগত করেন শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী খলিলুর রহমান চাঁদ, আবদুল্লাহ আল মালেক চৌধুরী, আব্দুস সবুর, হাবিবুর রহমান, সৈকত হোসেন ও মৌরি দেবনাথ প্রমুখ। 

খলিলুর রহমান চাঁদ বলেন, মামুন ভাই-এর সাথে কারো কোনোদিন কোনো শত্রুতা ছিল না। কারো সাথে কোনোদিন রাগ করে কথা বলেনি। জুলাই আন্দোলনের সময় সে হলেও ছিল না। আন্দোলনেও তার স্বত:পূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। তাকে আমরা কোনোদিন বিড়ি-সিগারেট খেতে দেখি নাই। অত্যন্ত সহজ সরল মানুষ। তাকে অস্ত্র ও মাদকের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে— যা ভিত্তিহীন। আমরা দ্রুতই ভাইয়ের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার চাই। 

আরেক শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা থাকে খুবই নম্র, ভদ্র হিসেবে পেয়েছি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো তার রুমে একটি জি আই পাইপ পাওয়া গিয়েছে। যা আসলে তার সাথে যায় না। 

তিনি আরো বলেন, আমাদের বিভাগ ও অন্যান্য ডিপার্টমেন্টের অনেককেই বহিষ্কার করা হয়েছে সেগুলো নিয়ে আমাদের কোন কথা নেই। আমাদের আজকের এই মানববন্ধনের কারণ হলো ‘নিরপরাধ’ মামুনের শাস্তি প্রত্যাহারের দাবিতে। 

বক্তারা বলেন, উনি জুলাই আন্দোলনেও অংশগ্রহণ করেছেন। সেই সময়টাতে তিনি মেসে ছিলেন। যে রুমের অস্ত্র রাখার দায়ে থাকে বহিষ্কার করা হয়েছে সেই রুমে তিনি থাকতেন না। তবে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগের প্রমাণ দিতে পারে তাহলে আমাদের আর কোন কথা থাকবে না। 

তারা আরো বলেন, আমাদের দাবি হলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অতিদ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে আপিলের রেজাল্ট প্রকাশ করে। তাকে যেন খালাস প্রদান করা হয়। 

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মামুন মিয়া নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। ঠিকমতো খেতে পারছি না, পড়ালেখা করতে পারছি না, ঘুমাতে পারছি না। পরীক্ষা চলছে। ভালো করে পরীক্ষা দিতে পারছি না। আমার শরীরের ওজন দিনদিন কমে যাচ্ছে। আমি প্রশাসনের সিদ্ধান্তের আলোকে আপিল করেছি। আমি চাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন রিভিউ প্রক্রিয়াটা দ্রুত বাস্তবায়ন করেন। এটি যত বেশি সময়সাপেক্ষ হবে আমি তত বেশি ভেঙে পড়ব।   

তিনি আরো বলেন, আমি টিউশনি করে নিজে খরচ মিটিয়েছি এবং পরিবারকেও সহযোগিতা করেছি। আমার দিনের একটা বড় একটা অংশ কেটেছে রিডিং রুমে। আমি ছাত্রলীগের কোন অপরাধমূলক কার্যক্রমের সাথে কখনই জড়িত ছিলাম না। আমার মা অসুস্থ। তাদেরকে আমি এখনো কিছু জানাইনি। আমার মা জানলে উনিও মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হবেন।  

মামুন আরো বলেন, আমি জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে হল ছেড়ে দেই। শাহপরাণ হলের ৪১৭ নাম্বার রুমে যে ‘জিই আই পাইপ’ পাওয়া গিয়েছে সে বিষয়ে আমি একদম অবগত নই। এটার সাথে আমার দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। 

উপ-উপাচার্য সাজেদুল করিমের সাথে বৈঠককালে তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, সিন্ডিকেটে একটি রিভিউ কমিটি গঠন করেছে করেছে। আপিল করলে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে কোন বাঁধা থাকবে না। সে যদি প্রমাণ করতে পারে যে সেই রুমে সে ছিল না তাহলে সে খালাস পেয়ে যাবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি