রেমিট্যান্সের প্রণোদনা জুলাই থেকেই কার্যকর
ইত্তেফাক রিপোর্ট
গত বাজেটে সরকার সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের ওপর উেস কর ১০ শতাংশ হারে কর্তনের সিদ্ধান্ত নিলেও অপেক্ষাকৃত স্বল্প বিনিয়োগকারীদের জন্য এতে কিছুটা ছাড় দেওয়া হচ্ছে। ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই উেস কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে পাঁচ শতাংশ করা হচ্ছে। গতকাল সোমবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তবে ৫ লাখ টাকার উপরে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কর যথারীতি ১০ শতাংশই থাকবে। সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, চলতি মাস থেকেই (গত পহেলা জুলাই) এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকার-ঘোষিত ২ শতাংশ প্রণোদনাও গত ১ জুলাই থেকেই কার্যকর বলে তিনি জানিয়েছেন। গত অর্থবছর পর্যন্ত সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় উেস কর ছিল ৫ শতাংশ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সঞ্চয়পত্র যাদের জন্য, তারা না পেয়ে ধনীরা এ সুবিধা পাচ্ছে। এজন্য শিগগিরই সঞ্চয়পত্র নিয়ে আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। সেখানে ৫ লাখের ওপরে যাদের বিনিয়োগ তারা ১০ শতাংশ উেস কর দেবে। এর নিচে বা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ও পেনশনভোগীরা ৫ শতাংশ উেস কর দেবে। তিনি আরো বলেন, বাজেট পাশের পর সঞ্চয়পত্র নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তাই সঞ্চয়পত্রে যাদের ৫ লাখ টাকা আছে, তাদের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ কর আর এর বেশি যারা রাখবেন তাদের ১০ শতাংশ উেস কর দিতে হবে। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে গরিব বা স্বল্প আয়ের মানুষ। তাই এই খাতে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে চাই। এ সুযোগ যাদের জন্য দেওয়া হচ্ছে তাদের জন্য এটা চলবে। ৫ লাখ টাকা যথেষ্ট না হলে পরবর্তী সময়ে চিন্তাভাবনা করা হবে।
সঞ্চয়পত্র মূলত সরকারের ঋণ। অপেক্ষাকৃত কম আয়ের ও সাধারণ গৃহিণী, অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবীদের জন্য বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হলেও এ সুযোগ নিয়ে অনেকেই কোটি কোটি টাকার বৈধ-অবৈধ আয় এতে বিনিয়োগ করে আসছিলেন। ফলে সরকারের দেওয়া সুবিধার বেশিরভাগই তাদের পকেটে চলে যাচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এসব কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও সঞ্চয়পত্র বিক্রি হচ্ছে অনেক বেশি। বিনিয়োগের বড়ো অংশই সঞ্চয়পত্রে চলে যাওয়ায় টান পড়ে ব্যাংক খাতের আমানত সংগ্রহে। এজন্য ব্যাংকাররা সঞ্চয়পত্রর সুদের হার কমানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এমন আলোচনার মধ্যেই গত অর্থবছরের শেষ দিকে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে কড়াকড়ি আরোপ করতে বেশকিছু বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। গতকাল অর্থমন্ত্রী বলেন, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। ডাটাবেজ দেখে কে কোথায় কত টাকা বিনিয়োগ করেছে, তা নিশ্চিত হয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। সঞ্চয়পত্রে কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগকারীদের জন্য পদক্ষেপের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আইনি কোনো বাধা না থাকায় শাস্তি দেওয়া সম্ভব নয়।
এছাড়া প্রস্তুতির অভাবে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের ওপর ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া এখনো শুরু করা যায়নি—জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রণোদনা দেওয়ার জন্য সিস্টেম আপডেট করতে আরো দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে।
সামনে ঈদ, অনেকেই ধারণা করছেন, এখন দেশে কেউ রেমিট্যান্স পাঠালে তারা প্রণোদনা পাবে না। এটা কিন্তু ঠিক না। যেহেতু বাজেটে পাশ হয়েছে সেহেতু এখন রেমিট্যান্স পাঠালেও পরবর্তীতে ঐ প্রণোদনার অর্থ পাবে।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।
