ক্ষুদ্র উদ্যোগে প্রক্রিয়াজাত মৎস্য পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে মৎস্য উদ্যোক্তাদের মতবিনিময় সভা

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:১৮

ক্ষুদ্র উদ্যোগে প্রক্রিয়াজাত মৎস্য পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ নিয়ে গোপালগঞ্জে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৫ অক্টোবর) গোপালগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। 

সভায় জানানো হয়, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি (এমএসএমই) উদ্যোক্তারা। জিডিপির অন্তত ২৫ শতাংশও আসে এই খাত থেকে। তাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এই খাতে আরও নজর দেওয়ার প্রয়োজন।

বক্তারা জানান, কৃষিপণ্য হিসেবে ‘রেডি টু কুক’ ও ‘রেডি টু ইট’ পর্যায়ের মৎস্যপণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে পণ্যের সঠিক মান বজায় রাখা, পণ্যের আধিক্য ও চাহিদা এবং প্রক্রিয়াজাত পণ্য প্যাকেজিংয়ে উদ্যোক্তাদের পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাব রয়েছে। এক্ষেত্রে পণ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহণ ও বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়া আরও সহজ করা জরুরি। 

সভায় জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে মাছকে আকর্ষণীয় করার জন্য বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটকে (বিএফআরআই) রেডি টু কুক মৎস্যপণ্য উৎপাদন ও গবেষণা আরো জোরদার করতে হবে। মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং সেই সাথে মাছের স্বাদ অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়ে মৎস্য গবেষণা আরও বেগবান করতে হবে।

জেলা মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা এবিএম জাকারিয়া বলেন, আমরা অতি শীঘ্রই মাছ সংরক্ষণ, প্রসেসিং প্লান্ট, মৎস্য পণ্য তৈরিতে উপাদান, পণ্যের মান ও পরিমাণ, স্থাপনা সংক্রান্ত সকল বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে একটি নির্দেশিকা তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছি। এর ফলে এই সেক্টরের উদ্যোক্তারা অনেক লাভবান হতে পারবে। 

তিনি আরও বলেন, আপনারা যারা রেডি টু ইট ও রেডি টু কুক নিয়ে সামনে ব্যাবসা করার চিন্তা করছেন তাদের অবশ্যই পণ্যগুলো ল্যাব টেস্ট করিয়ে নিতে হবে। মাছ কোথা থেকে সংগ্রহ করছেন, কি খাবার খাওয়াচ্ছেন এবং কীভাবে পরিচর্যা নেওয়া হচ্ছে একই সাথে মাছের পুষ্টিগুণ ঠিক আছে কিনা সেই দিকেও বিশেষ নজরদারি রাখতে হবে। এটা পণ্য সনদায়নের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আলোচনা সভায় উপস্থিত নাজমিন নাহার মিতা নামে এক উদ্যোক্তা বলেন, আমরা যারা জেলা শহর বা উপজেলা পর্যায়ে এই ব্যাবসা করতে চাচ্ছি তারা বিএসটিআই, এফআইকিউসি বা পরিবেশ সম্বন্ধে বা এর গুরুত্ব সম্পর্কে তেমন ধারণা ছিল না। তবে সরকারি বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে আমার চোখ খুলে গেল এবং ওনাদের নির্দেশ মত ভবিষ্যতে ব্যবসা পরিচালনা করার দৃঢ় অঙ্গীকার করছি।

রুরাল মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ ট্রান্সফরমেশন প্রজেক্ট( আরএমটিপি) প্রকল্পের ভ্যালু চেইন ফ্যাসিলিটেটর (ভিসিএফ) কৃষিবিদ মো. লেমন মিয়া বলেন, আরএমটিপি প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় মৎস্য চাষিদের ও উদ্যোক্তাদের আধুনিক প্রযুক্তি, পানির প্যারামিটার, পুকুর ব্যাবস্থাপনা, প্রোবায়োটিক এর ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক খাবারের ব্যাপারে আমরা সবসময় উৎসাহ দিয়ে থাকি। নিরাপদ মৎস্য পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করতে আমরা সাধারন চাষিদের অন্যান্য সফল চাষিদের সাথে সংযোগ করিয়ে দেই যাতে সঠিক ভ্যালু চেইন বজায় থাকে এবং সবাই উপকৃত হয়। ভবিষ্যতে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মাছচাষ ও মূল্য সংযোজিত মৎস্যপণ্য উৎপাদনসহ সকল প্রয়োজনীয় পরামর্শ অব্যাহত থাকবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে।

গোপালগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে আরএমটিপি প্রকল্পের এই আয়োজনে অন্যদের মধ্যে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ও মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. নিয়াজ আল হাসান, বিএসটিআই উপপরিচালক গোবিন্দ কুমার ঘোষ, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাহফুজুর রহমান, পদক্ষেপ-আরএমটিপি প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. রফিকুল ইসলাম, কৃষিবিদ মো. লেমন মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/এনটিএম