আফরিন আহমেদ
সাধারণত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরকে পরিবার ও সমাজের বোঝা মনে করা হয়। তাদের প্রতি প্রদর্শন করা হয় নানা ধরনের অবজ্ঞা, অবহেলা আর বৈষম্য। বঞ্চিত করা হয় সুযোগ-সুবিধা, আনন্দ-বিনোদনসহ নানা অধিকার থেকে। প্রকৃত পক্ষে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা পরিবার বা সমাজের বোঝা নয়। অধিকার সংরক্ষণ, আনন্দ-বিনোদন ও উপযুক্ত পরিবেশের মধ্য দিয়ে তাদেরকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা সম্ভব। একজন অপ্রতিবন্ধী নাগরিকের মতো প্রতিবন্ধী নাগরিকেরও রয়েছে নানা ধরনের সুবিধা ভোগের অধিকার।
সুখের বার্তা হলো, বৈষম্যের শিকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে শুরু করেছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে মানুষ নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে। তাদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধার পরিধি ক্রমেই প্রসারিত হচ্ছে। তাদের কল্যাণে নানা ধরনের সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। অনেকের কর্মসংস্থানও হচ্ছে। একজন অপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য অবকাশ ও বিনোদন যতটা জরুরি তার চেয়েও বেশি জরুরি একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য।
জেনে ভাল লাগছে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আনন্দ-বিনোদন ও প্রশান্তির কথা ভেবে ঢাকার অদূরে ধামরাইয়ে নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে ওঠা নান্দনিক বিনোদন কেন্দ্র ‘আলাদীন্্স পার্ক’। ঈদকে ঘিরে এই মনোরম বিনোদন কেন্দ্রটি এক সপ্তাহ উন্মুক্ত থাকবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য। অর্থাত্ ঐ সময়ে বিনা খরচে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা আনন্দ-বিনোদনে সময় পাড় করতে পারবেন এই বিনোদন কেন্দ্রে। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া আলাদীন্্স পার্কেও একই সুবিধা পাবেন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা। বিশাল এলাকা জুড়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় গড়ে ওঠেছে সপরিবারে ঘুরে বেড়ানোর মতো এই বিনোদন কেন্দ্র। অ্যামিউজমেন্ট পার্ক’ এবং ‘আলাদীন্্স ওয়াটার ওয়ার্লড’। এখানে রয়েছে বিনোদনের নানা উপায় ও উপকরণ। রয়েছে ১২ডি ডায়নামিক সিনেমা হল, হাইড্রোলিক পেন্ডুলাম, স্পীড স্পিনিং কার, বাম্পার কার, বুল রাইডস, ট্রেন, ডাবল ডেক কেরোসেল, সুপার সুয়িং, মিনি সুইট ড্যানসিং, ইনফ্লাটেবল কিংডম, জাম্পিং হর্স, কিডি বল গান, মিনি গেমস্্, কিনি রাইডস্্ জোন, প্যাডেল বোট, কেবল কার। রয়েছে আর্টিফিসিয়াল ফিশিং লেক। মনোরম পিকনিক স্পট ও কনভেনশন হল এই বিনোদন কেন্দ্রের অন্যতম আকর্ষণ। দূরদূরান্তের দর্শনার্থীদের সপরিবারে থাকা খাওয়ার সুবিধার্থে উন্মুক্ত পরিবেশে গড়ে ওঠা এই বিনোদন কেন্দ্রে চালু রয়েছে বিলাসবহুল বিশাল রিসোর্ট। রয়েছে উপভোগ্য ওয়াটার পার্ক। এই বিনোদন কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের মতো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আনন্দ-বিনোদন ও কল্যাণের কথা ভেবে আরো অনেকের দৃষ্টি উন্মুচিত হবে, অনেকে এগিয়ে আসবে বলে আশা করছি।
n লেখক :শিক্ষার্থী :কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
