শিশুদের টাইফয়েড জ্বরজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যুহার হ্রাসে বাংলাদেশ সরকার সারাদেশে মাসব্যাপী ‘টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৫’ শুরু করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-এর ব্যবস্থাপনায় গত ১২ অক্টোবর থেকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
ক্যাম্পেইনের আওতায় দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ১৫ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের টাইফয়েড প্রতিরোধী টিকা প্রদান করা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, টাইফয়েডের কারণে প্রতিবছর দেশে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু আক্রান্ত ও মৃত হয়। এই টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে টাইফয়েডজনিত রোগ ও মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে সাধারণত স্কুলভিত্তিক টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হলেও, এবারই প্রথম মাদ্রাসাগুলোকে এই ক্যাম্পেইনের আওতায় আনা হয়েছে। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের টাইফয়েডের টিকা দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মধ্যে সমন্বয়ের একটি দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ।
এ উপলক্ষে রবিবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার বাবর রোডের জহুরি মহল্লাস্থ গাউছিয়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় আয়োজিত হয় একটি মতবিনিময় সভা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ এজহারুল হক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর, মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, এস. এম. তারিকুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব), ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ডা. নাজমুল হক, সদস্য, ন্যাশনাল এক্সপার্ট রিভিউ কমিটি (AEFI) ও সহযোগী অধ্যাপক, ইমন আমির, পরিদর্শক, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, ডা. সলোমন, হেলথ সেকশন চিফ, ইউনিসেফ বাংলাদেশ
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইপিআই ও সার্ভিল্যান্স শাখার কর্মকর্তাবৃন্দ, ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন এবং অন্যান্য অংশীদার সংস্থার প্রতিনিধিরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, এ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে টাইফয়েড সংক্রমণজনিত রোগ ও মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচির প্রতি জনসচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
