মিল্ক ভিটার পাস্তুরিত দুধ বিক্রিতে বাধা নেই

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০১৯, ২২:০৩

অ্যান্টিবায়োটিক ও সিসা পাওয়ায় পাস্তুরিত দুধ বাজারজাতকরণের ওপর হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার আদেশ স্থগিত করেছে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। মিল্ক ভিটা ব্র্যান্ডের পাস্তুরিত দুধ উত্পাদন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ দুগ্ধ উত্পাদনকারী সমবায় ইউনিয়নের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান হাইকোর্টের আদেশ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে দেন। এই আদেশের ফলে মিল্ক ভিটা ব্র্যান্ডের পাস্তুরিত দুধ উত্পাদন, সরবরাহ ও বাজারজাতকরণে বাংলাদেশ দুগ্ধ উত্পাদনকারীর সমবায় ইউনিয়নের কোনো আইনগত বাধা থাকল না বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, হাইকোর্টের আদেশ চেম্বার আদালত স্থগিত করে দিয়েছে। এর ফলে শুধু মিল্ক ভিটা ব্র্যান্ডের দুধ বিক্রিতে কোনো বাধা নেই। এদিকে পাস্তুরিত দুধ বাজারজাতকারী অন্য কোম্পানিগুলোও হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করবেন বলে জানা গেছে।

রবিবার হাইকোর্ট এক আদেশে বিএসটিআইয়ের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ১৪ কোম্পানির পাস্তুরিত দুধ উত্পাদন, সরবরাহ ও বিপণনের ওপর পাঁচ সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা জারি করে। একইসঙ্গে জনগণ যাতে এসব কোম্পানির দুধ বাজার থেকে ক্রয় না করে, সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয় আদালত। ১৪ কোম্পানি হচ্ছে :প্রাণ ডেইরির প্রাণ মিল্ক, ব্র্যাক ডেইরির আড়ং ডেইরি, আকিজের ফার্ম ফ্রেশ মিল্ক, বাংলাদেশ দুগ্ধ উত্পাদনকারীর সমবায় ইউনিয়নের মিল্ক ভিটা, ড্যানিশ ডেইরির আইরান, ইছামতি ডেইরির পিউরা, আমেরিকান ডেইরির মো. আফতাব মিল্কের আফতাব, শিলাইদহ ডেইরির আলট্রা, তানিয়া ডেইরির সেইফ, ঈগলু ডেইরির ঈগলু, বার আউলিয়া ডেইরির ডেইরি ফ্রেশ, উত্তরবঙ্গ ডেইরির মিল্ক ফ্রেশ ও পূর্ব বাংলা ডেইরির আরওয়া ব্র্যান্ডের দুধ।

হাইকোর্টের এই আদেশ স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করে মিল্ক ভিটা কোম্পানি। আবেদনের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম শুনানি করেন। তাকে শুনানিতে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার মহিউদ্দিন মো. হানিফ (ফরহাদ)।

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, হাইকোর্টের আদেশের ফলে দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্য উত্পাদনের সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠান ও খামারি জড়িত রয়েছেন, তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। প্রতিদিনই দুধ উত্পাদন করছেন খামারিরা। তারা যদি সেটা বিক্রি করতে না পারেন, তাহলে প্রান্তিক এই খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন আরো বেশি। এজন্য হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত দরকার। এরপরই চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেন।

বাংলাদেশ দুগ্ধ উত্পাদনকারীর সমবায় ইউনিয়নের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অতিরিক্ত সচিব দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিভিন্ন ল্যাবের যে রিপোর্ট, তাতে মিল্ক ভিটা দুধে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কিছু নেই। আমরা আগে ১ লাখ ৩০ হাজার লিটার দুধ বাজারজাত করতাম। কিন্তু দুধে বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সেটা ৭৫ হাজার লিটারে নেমে এসেছে।