স্মার্টফোনের পানিভীতি! সমাধান কী?

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৫, ২১:৫৩

ধরুন আপনার স্মার্টফোনটি দুর্ঘটনার পড়ল। প্রযুক্তির সবচেয়ে পুরানো শত্রু পানির শিকার হলো আপনার প্রিয় ফোনটি। ওপরে একফোঁটা গরম কফি পড়া, হঠাৎ বৃষ্টি বা টয়লেটে ফোন পড়ে যাওয়া, ব্যাস! পৃথিবীর সাথে আপনার যোগাযোগ, ছবির অ্যালবাম আর সেই দ্রুত চার্জিং সক্ষমতা সব যেন একসাথে হাওয়ায় মিলিয়ে গেল! 

প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় ডিভাইস পানির কারণে নষ্ট করে ফেলে। অত্যাধুনিক এআই ক্যামেরা, অবিশ্বাস্য ফাস্ট চার্জিং, সুপার কম্পিউটারকে পাল্লা দিতে পারে এমন প্রসেসর চলে আসার পরও, এখনও হাজারো স্মার্টফোন টয়লেট, পোকামাকড়, প্রবল বৃষ্টি বা কয়েক ফোঁটা গরম কফির কারণে নষ্ট হচ্ছে। ২০২৫ সালে এসে আমাদের ফোনগুলো এআই সক্ষম হয়েছে, যা আমাদের ফেইস দিয়ে ডিভাইস আনলক করতে পারে, আমাদের স্লিপ-সাইকেল ট্র্যাক করতে পারে, এমনকি রিয়েল টাইমে অনুবাদও করতে পারে। কিন্তু, এগুলো কী একফোঁটা বৃষ্টিও সহ্য করতে পারে? অনেকের জন্যই উত্তরটি এখন পর্যন্ত – না! বলা চলে, আইপি৬৯ ওয়াটারপ্রুফ ফিচার এখন আর কোনো বিলাসিতা নয়; বরং, এমনকি এন্ট্রি লেভেলের ফোনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।
 
তবে, এক্ষেত্রে, বাস্তবতা বেশ কঠিন! প্রতিবছর বিশ্বে ১০ কোটিরও বেশি স্মার্টফোন পানির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মেরামতযোগ্য ৪টি ফোনের ১টিই পানির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত, এটি তেমন কোনো বিরল ঘটনা নয়। এসমস্ত অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার মধ্যে রয়েছে - ৪৩% টয়লেটে পড়ে যাওয়া, ৩৩% ডিভাইসের ওপর পানি পড়া এবং ১৮% পুল বা সমুদ্রসৈকতে ক্ষতির মুখে পড়া। আর এসব দুর্ঘটনায় কেবল যে ফোন পানিতে পড়ে, তা নয়, একইসাথে পকেটের ওপরও চাপ পড়ে। এতে করে ছবি, চ্যাট ও মানসিক শান্তি বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি, গড়ে প্রায় আড়াইশো মার্কিন ডলার খরচও হয়। 

বাংলাদেশেও আমরা একই পরিস্থিতির শিকার। একটা কথা আমরা প্রায়ই শুনি! ‘ওয়াটার-রেজিজট্যান্ট… আন্ডার ল্যাব কন্ডিশন’ বলে অনেক উৎপাদক তাদের ডিভাইস মার্কেটিং করার চেষ্টা করেন। কিন্তু আসলেই কী তাই! ল্যাবে সাধারণত যে পরীক্ষাগুলো করা হয়, সেখানে কাঁপতে থাকা হাত বা হঠাৎ ঝাঁকুনিতে পড়া নৌকায় কী করণীয় তা থাকে না। হয়ত আপনার স্মার্টফোনটি ফ্রেশ ওয়াটারে ৩০ মিনিটের জন্য অক্ষত থাকতে পারে; তবে যে কথাটি প্রায়ই উৎপাদকেরা জানাতে ভুলে যান, তা হলো – গভীর জল বা গরম পানি এসব ক্ষেত্রে তাদের এই মার্কেটিং কাজ করবে কিনা! 

এরকম ঠেকে শিখেছেন, এমন কিছু ভুক্তভোগীর বয়ান তুলে ধরা হলো – ‘আমিতো কেবল ওয়েদার দেখতে বেরিয়েছিলাম, এখন কাউকে সাহায্যের জন্য কলও করতে পারছি না!’ বা, ‘চাপ কমাতে ছুটির দিনে সাঁতার কাটতে গিয়েছিলাম, এখন দেখছি নতুন ফোনও কেনা লাগবে!’ আসলে এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমরা সবাই গিয়েছি। হয়ত ঝুমবৃষ্টিতে একটি সুন্দর সেলফি তুলতে চেয়েছি, অথবা সপ্তাহের শেষে বন্ধুদের সাথে মাছ ধরতে গিয়েছি। এমন সময়ই ফোন পড়ে গিয়ে যত্তসব বিপত্তি ঘটে। আমাদের সাথে সাথে ফোনও যেন ছুটিতে চলে যায়! 

একটি প্রশ্ন রয়েই যায়, ২০২৫ সালে এসেও কেন ওয়াটারপ্রুফ স্মার্টফোন সর্বজনীন হলো না? যে ফোনে ফেস আনলকের ব্যবস্থা থাকছে, সেখানে চোখের পানি সহ্য করার সক্ষমতাও থাকা উচিত। স্মার্টফোন প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিবছর নতুন নতুন উদ্ভাবন নিয়ে আসছে – আরও বেশি মেগাপিক্সেল, স্মার্ট এআই, ফাস্ট চার্জিং; তবে অধিকাংশ ডিভাইস এখনও পানির ছিটা সামাল দিতে পারছে না। যদিও বিভিন্ন ব্র্যান্ড ইদানিং আইপি-রেটেড ওয়াটারপ্রুফ ফোন বাজারে নিয়ে আসছে, তবে সেগুলোর তো দামও বেশি। এমন একটি ফিচার যা আদতে মানদণ্ড হওয়া প্রয়োজন, অথচ হয়ে আছে বিলাসিতা। আমরা আর কোনো ছাড় দিতে চাই না। আমরা চাই স্টাইল, পারফরম্যান্স বা ক্যামেরার মানে কোনো প্রকার ছাড় না দিয়েও নির্ভরযোগ্য ওয়াটারপ্রুফ ফিচারের সাশ্রয়ী স্মার্টফোন।

অবশ্য একটা ভালো খবর আছে। এই খাতে খুব ধীরে হলেও পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। গতবছর থেকে রিয়েলমির মত কিছু ব্র্যান্ড সাশ্রয়ী মূল্যে আইপি৬৯-রেটেড ফোন নিয়ে আসছে, যা একইসাথে সক্ষম, টেকসই এবং ওয়াটারপ্রুফ। দোকানদার, বাইকার বা ব্যবসায়ীদের মতো প্রতিদিন যাদের স্মার্টফোনের ব্যাপক ব্যবহার থাকে, তারা আসলেই এমন পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করে রয়েছেন। 

আমাদের ফোনকে পানি থেকে সুরক্ষিত রাখা এবং একইসাথে, প্রিমিয়াম ফিচারের নামে আমাদের বোকা বানানো থেকে নিরাপদ থাকার এখনই সময়। মূল ফিচারগুলোতে কোনো প্রকার আপস না করে এই ওয়াটারপ্রুফ ফিচার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পরবর্তী উদ্ভাবনে আর গতি বাড়ালেই কেবল হবে না, বাস্তব জীবনে কাজে লাগে এমন দিকেও মনযোগ দিতে হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি