অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গরুর মাংস বিক্রির চেষ্টা, ব্যবসায়ীকে দণ্ড

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৫, ১২:১৭

পিরোজপুর সদর উপজেলার ভাইজোড়া এলাকায় অ্যানথ্রাক্স (তড়কা) রোগে আক্রান্ত একটি গরু গোপনে জবাই করে মাংস বিক্রির চেষ্টা করার অভিযোগে মো. রাজা (৩৫) নামের মাংস ব্যবসায়ীকে জরিমানা ও অনাদায়ে কারাদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আল আমীন এ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযুক্ত মো. রাজা সদর উপজেলার হরিণা গাজীপুর এলাকার মো. রুস্তম সেখের ছেলে। তিনি পিরোজপুর পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের রয়েল বেঙ্গল মার্কেটে মাংস ব্যবসা করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজার নির্দেশে গভীর রাতে ওই অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গরুটি গোপনে জবাই করা হয় এবং মাংস বিক্রির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। এ সংক্রান্ত গোপন সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কিছু গণমাধ্যমকর্মী বিষয়টি যাচাই করে প্রশাসনকে জানান।

পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার অপরাধে ব্যবসায়ী রাজাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গরুটির মাংস আগুনে পুড়িয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত পশুচিকিৎসক ডা. ওলিউল্লাহ জানান, ভোররাতে রাজা তাকে ফোন করে গরুটির প্রসব সংক্রান্ত সাহায্য চেয়েছিলেন। তিনি গিয়ে গর্ভবতী গরুটিকে প্রসব করান; মরা বাচ্চা প্রসবের পর দেখা যায় মায়ের এক পা সম্পূর্ণ পচে গেছে। ডাঃ ওলিউল্লাহ নিশ্চিত করেন, ‘গরুটিটি অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত ছিল; এই মাংস কোনোভাবেই মানুষের খাবার উপযোগী নয়।’

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আল আমীন বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থে মাংস-ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। অসুস্থ বা মৃত পশুর মাংস বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশু জবাই ও মাংস বিক্রির চেষ্টা করলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’ তিনি আরও জানান, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।

ইত্তেফাক/এনএন