মানিকগঞ্জে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। গত ১০ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে দুইজনকে। বাকি ২৮ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
মানিকগঞ্জের সাতটি উপজেলার মধ্যে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এরপর সাটুরিয়া, দৌলতপুর ও ঘিওর উপজেলায়। তবে জেলার সিংগাইর, শিবালয় এবং হরিরামপুর উপজেলার কারও ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। এদের মধ্যে থেকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া এলাকার আসীস সরকারের স্ত্রী শিলা সাহা (৪০) এবং পশ্চিম সেওতা এলাকার জাকির হোসেনের মেয়ে জেবা (১৭) সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।
আর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে হুমায়নসহ আরও একজনকে। বাকি ২৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় জেলা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সজিব হোসেন, আলামিন হোসেন, শওকত ইসলাম ও রাশেদা বেগম মানিকগঞ্জ জেলার নিজ নিজ বাড়িতে বসবাস করেন। তারা কখনো ঢাকা বা অন্য কোথাও বেড়াতে বা কোন কাজে যায়নি। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বাকিরা সকলেই অসুস্থ হওয়ার আগে ঢাকায় বেড়াতে গিয়েছিলেন অথবা নিজ নিজ কর্মে লিপ্ত ছিলেন।
মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি হওয়া একাধিক রোগীরা জানান, শরীরে ব্যথা ছাড়া অন্য আর তেমন কোনো সমস্যা নেই। হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাও ভাল। তবে মানসিকভাবে ডেঙ্গু নিয়ে বেশ চিন্তিত রয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডাক্তার লুৎফর রহমান জানান, 'ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের জন্য দুইটি সেল গঠন করা হয়েছে। ৪ জন সিনিয়র ও ৪ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট রয়েছে সেলে। এ পর্যন্ত হাসপাতালে ১৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। ডেঙ্গু নিশ্চিত হওয়ার ক্ষেত্রে রক্তের তিনটি পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে সিবিসি ও প্লাটিলেট পরীক্ষার ব্যবস্থা হাসপাতালে আছে। কিন্তু কিট এবং রিএজেন্ট সরবরাহ না থাকার কারণে এনএসওয়ান পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। রোগীরা বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে গিয়ে পরীক্ষাটি করাচ্ছেন।'
আরও পড়ুন: এফআর টাওয়ার জালিয়াতিতে রাজউক কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ারুল আমিন আখন্দ বলেন, 'জেলা হাসপাতাল ছাড়া কোনো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। সীমিত সাধ্যের মধ্যে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে সরকারি হাসপাতালে কিট এবং রিএজেন্ট সরবরাহ না থাকার কারণে এনএসওয়ান পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। কিট ও রিএজেন্ট সরবরাহ না থাকার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে টেন্ডার আহ্বানের মাধ্যমে কিট ও রিএজেন্ট ক্রয় করা হবে। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা ফ্রি ডেঙ্গু পরীক্ষা করছি।'
মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক এসএম ফেরদৌস বলেন, 'ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি জানার পর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (সার্বিক) হাসপাতাল পরিদর্শনে পাঠাই। নিয়মিত বরাদ্দ না আসা পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু পরীক্ষার সব ব্যবস্থা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে।'
ইত্তেফাক/জেডএইচডি
