গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জরাজীর্ণ সরকারি খাদ্যগুদামে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন শ্রমিক ও কর্মকর্তারা। যেকোন সময় খাদ্যগুদাম ধসে হতাহতের আশঙ্কা করছেন এখানে কর্মরতরা।
জানা যায়, টুঙ্গিপাড়া খাদ্যগুদামের এফএস ১ গুদামটির পিলার দুর্বল হয়ে পশ্চিম দিকে হেলে পড়েছে। গুদামটির সবগুলো পিলারের পলেস্তারা খসে পড়েছে। বেড়িয়ে গেছে রড। রডে মরিচা পড়ে পিলারগুলো নরবড়ে হয়ে কোন রকমে খাদ্য গুদামটি দাঁড়িয়ে রয়েছে। এছাড়া ছাদের পলেস্তারা মাঝেমধ্যে খসে পড়ে ছাদ দুর্বল হয়ে পড়েছে। বৃষ্টিতে ছাদ চুইয়ে পানি গুদামের মধ্যে পড়ছে। এতে গুদামে রক্ষিত ধান চাল ও গম নষ্ট হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ খাদ্য গুদামে শ্রমিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, টুঙ্গিপাড়ার পানিতে অতিরিক্ত লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। লবণে গুদামটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
টুঙ্গিপাড়া খাদ্যগুদাম অফিস জানিয়েছে, ১৯৮১ সালের দিকে ২ হাজার মেট্রিকটন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ৪টি খাদ্যগুদাম নির্মাণ করা হয়। এরমধ্যে ৫শ মেট্রিকটন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এফএস-১ খাদ্য গুদামটির জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। এখন গুদামটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
টুঙ্গিপাড়া খাদ্য গুদামের শ্রমিক মোঃ বদরুল বিশ্বাস বলেন, ১নং গুদামের সব পিলার থেকে পলেস্তারা ও ঢালাই খসে পড়ে রড বের হয়ে রয়েছে। পিলার দুর্বল হয়ে গুদামটি পশ্চিমে হেলে পড়েছে। এছাড়া গুদামে কাজ করার সময় ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। এতে আমরা আহত হচ্ছি। গুদামে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছি।
শ্রমিক সর্দার মোঃ রনি বলেন, বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে খাদ্যগুদামের মধ্যে পানি পড়ে। এ পানিতে খাদ্যগুদামের ধান, চাল ও গম নষ্ট হচ্ছে। জরাজীর্ণ এ খাদ্যগুদামের সব জায়গায় ধান, চাল ও গম রাখা যাচ্ছে না। খাদ্যগুদামটি জরুরী ভিত্তিতে সংস্কার করা প্রয়োজন।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মনোয়ার উদ্দিন বলেন, টুঙ্গিপাড়ার পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে গুদামটির দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। দেয়াল লবণে আক্রান্ত হয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এছাড়া নির্মাণ ত্রুটির কারণে পিলারগুলোর পলেস্তারা ঝড়ে পড়েছে। রড বের হয়ে জং ধরে দুর্বল হয়ে খাদ্য গুদামটি সামান্য হেলে পড়েছে।
গোপালগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ শেফাউর রহমান বলেন, বিষয়টি আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। গত সপ্তাহে ঢাকা বিভাগের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক জামাল হোসেন খাদ্যগুদামটি পরিদর্শন করেছেন। তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার কথা বলেছেন।
ইত্তেফাক/আরকেজি
