দেশ ‘দুর্নীতিমুক্ত’ না হওয়ায় গেজেট থেকে নাম প্রত্যাহারের আবেদন করলো জুলাই যোদ্ধা

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৫, ২০:৩৩

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করে ফরিদপুরের আবরাব নাদিম (২৭) নামের এক ব্যক্তি নিজের নাম জুলাই যোদ্ধাদের গেজেট থেকে স্বেচ্ছায় প্রত্যাহার করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বেলা ১টার দিকে তিনি ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদনটি জমা দেন।

জেলা প্রশাসক বরাবর জমা দেওয়া আবেদনে জুলাই যোদ্ধাদের সরকারি গেজেট, মাসিক ভাতাসহ সব সুযোগ-সুবিধা থেকে নাম প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন আবরার নাদিম (ইতু)। তার গেজেট নম্বর ২৪৮৯। তার বাড়ি ফরিদপুর সদর উপজেলার কুঠিবাড়ী এলাকায়। জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেন তার আবেদনটি গ্রহণ করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেন বলেন, স্বেচ্ছায় জুলাইয়ের সরকারি গেজেট ও সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে নাম প্রত্যাহারের আবেদনটি তারা পেয়েছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আবেদনে আবরার নাদিম উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের যৌক্তিক আন্দোলনে তিনি আহত হয়েছিলেন। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাইয়ের চেতনায় দুর্নীতি ও লুটপাটমুক্ত দেশ গড়ার যে অঙ্গীকার করেছিল, এক বছরের বেশি সময় পরও তারা তা করতে পারেনি। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপও নিতে পারেনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বিভিন্ন অসংগতিমূলক কর্মকাণ্ড লক্ষণীয়।

আবেদনপত্রে আরও বলা হয়, ‘বিশেষ করে ফরিদপুরে বিভিন্ন প্রশাসনিক সেক্টরে অনিয়ম আগের মতো বহাল রয়েছে। একটি সিন্ডিকেটও ভাঙেনি। সঙ্গে অনিয়মও থেমে নেই, যা আপনারা সবাই অবগত আছেন। তাই আমি আমার নাম সরকারি গেজেট থেকে প্রত্যাহার এবং মাসিক ভাতা (যদিও আমি নিইনি) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করলাম।’ পাশাপাশি তিনিও কোনো অনিয়ম করে থাকলে সে ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

যোগাযোগ করলে আবরার নাদিম বলেন, ‘আমরা যে জন্য আন্দোলন করেছিলাম, তার কোনো প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি না। চারদিকে নিজেদের বন্দোবস্ত চলছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং স্থানীয় সরকারগুলো জুলাইয়ের যে চেতনায় দুর্নীতি ও লুটপাটমুক্ত দেশ গড়তে চেয়েছিল, সে ব্যাপারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। তাই আমি সরকারি গেজেট ও সুযোগ-সুবিধা থেকেও নাম প্রত্যাহারের আবেদন করেছি।’

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

 
ইত্তেফাক/এমএস