‘আমি ভ্যানচালক। টাকা পয়সা নাই। আমার শিশুপুত্র সিফাতকে (১০) শত্রুতাবশত হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীরা আমার শিশুপুত্রের লাশ ফেলে রেখেছিলো বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীতে। আমি দুইজনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছি ৪ মাস আগে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে মাত্র তিন দিন। এখনো কোন আসামি ধরা পড়ে নাই!’
ফুলবাড়ীয়ায় শিশুপুত্র হত্যার ঘটনায় বিচার নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েছেন বাবা-মা! হত্যার শিকার শিশুর বাবা ভ্যানচালক এনামুল হক সন্তানের হত্যাকারীর বিচার দাবি করতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘আসামিরা উল্টো আমাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। তাদের হুমকিতে আমি আমার আরও দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’ কথাগুলো বলার সময় অঝোর ধারায় কাঁদছিলেন অসহায় এই পিতা।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার কুশমাইল ইউনিয়নের বরুকা নামা পাড়া গ্রামের এলাকাবাসী জানায়, ভ্যানচালক এনামুল হকের পুত্র আঃ রাহীমকে (৭) পাশের বাড়ির নুরুল ইসলামের পুত্র মিনহাজ (৯) টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে গত ১৯ এপ্রিল বিকালে মারপিট করে। এর জের ধরে উভয় পরিবারে ঝগড়া ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় ভ্যানচালক এনামুল হককেও মারপিট করা হয়। মারপিটের পরে নুরুল ইসলাম ও তার ভাই আমিরুল ইসলাম এনামুল হকের ছেলেকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়। পরদিন ২০ এপ্রিল নদীর ভাঙ্গুরী ব্রিজ নামাক স্থানে সিফাতের (১০) শরীরে কাঁদা মাখানো ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় সেদিনই ভ্যানচালক অসহায় পিতা এনামুল হক বাদী হয়ে নুরুল ইসলাম ও তার ভাই আমিরুল ইসলামকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের করার পর থেকে প্রভাবশালী আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ভ্যানচালক ও তার পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে।
এনামুল বলেন, ‘আমি থানায় গিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ সেকান্দর আলীকে বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসতে চায় না। তদন্ত কর্মকর্তা আসামি ধরিয়ে দিতে বলেন। হত্যার মামলা হওয়ার পর পুলিশ এ মামলার জন্য মাত্র ৩ দিন ঘটনাস্থলে আসে। মামলা হওয়ার ৪ মাস পার হওয়ার পর পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।’
এনামুল আরও বলেন, ‘আসামিরা আমার সন্তানের ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পরিবর্তনের জন্য লোকমুখে প্রচার করছে।’
স্থানীয় সারোয়ার সরকার বলেন, ‘আমি শিশুদের নিয়ে দুই পরিবারের ঝগড়ার বিষয়টি সুরাহা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বিষয়টি সুরাহা কলতে নুরুল ইসলাম ও তার পরিবারের লোকজন রাজি ছিল না।’
প্রতিবেশি রাজমামুদ বলেন, ‘শিশু সিফাতের লাশ উদ্ধারের আগে ভোরবেলায় আমার গোয়াল ঘরে এসে সিফাত হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি নুরুল ইসলাম গরুর দড়ি ছেড়ে দিয়ে আবার বাঁধার চেষ্টা করে। তখন আমার তাকে সন্দেহ হয়। শিশু হত্যার ঘটনায় ৪ মাস আগে মামলা হলেও পুলিশ মাত্র ৩ দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এখন পর্যন্ত কোন আসামি গ্রেফতার হয়নি।’
আরও পড়ুন: আমাদের আদেশের পর সিটি করপোরেশনের ঘুম ভেঙেছে : হাইকোর্ট
এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফুলবাড়ীয়া থানার এস আই শাহ সেকান্দর আলী বলেন, ‘লাশের ময়না তদন্ত প্রতিবেদন হয়েছে আমি শুনেছি। কিন্তু তা এখনও আমার হাতে আসেনি।’
ইত্তেফাক/নূহু
