সংবাদ উপস্থাপনা থেকে উদ্যোক্তা

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৯, ১৯:৩৮

গ্রামের নাম কানহর। ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার সবুজ শ্যামল শান্ত এ গ্রামেই জন্ম জান্নাত সাথীর। পিতামাতার তৃতীয় সন্তান, শৈশব কেটেছে দারুণ দুরন্তপনায়। গ্রামের বাউন্ডুলে জীবন, দাদীর আদর আর আহ্লাদে গ্রামই যেন সবচেয়ে আপন। বন্ধুদের সঙ্গে কখনো গাছে, কখনো মাঠে, কখনো বা পুকুরে ভেলা ভাসিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানো এই মানুষটার প্রকৃতি ভীষণ প্রিয়।

ময়মনসিংহ শহরের নওমহল এলাকার ‘সানফ্লাওয়ার প্রি-ক্যাডেট অ্যান্ড হাইস্কুলেই’ শুরু ও সমাপ্তি হয় স্কুলজীবনের। পরবর্তীতে         শহরের মমিনুন্নেসা সরকারি কলেজে বিজ্ঞান শাখায় এইচএসসিতে   ভর্তি হওয়ার তিন মাসের মাথায় পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে              আবদ্ধ হন। তবে সাংসারিক জীবনে হারিয়ে ফেলেননি নিজেকে।  অবিচল লক্ষ্য পড়ালেখা শেষ করার। পরের বছর ঢাকায় কলেজ পরিবর্তন করে ভর্তি হন মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটে। সেখানে মানবিক শাখা থেকে এইচএসসি শেষ করে          ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের              ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে। কৃতিত্বের সঙ্গে শেষ করেন                    অনার্স-মাস্টার্স।

লেখাপড়া শেষে প্রথমে ‘সিইজিআইএস’ নামক এনজিওতে যোগ দেন জান্নাত সাথী। তবে চাকরি জীবনে সমস্যা দেখা দেয় স্বামীর কর্মস্থলের সঙ্গে দূরত্ব। চলে যান রাজধানীর বাইরে। ২০১২ সালে ফের ঢাকায় ফেরেন তিনি। আবারো নামতে হয় চাকরির সন্ধানে।             এরপর স্বনির্ভর হয়ে বাঁচার মন্ত্রে উজ্জীবিত জান্নাত সাথী, হয়ে যান সাংবাদিক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একদিন সাংবাদিক ফরিদ ভাই বললেন, ফেসবুকে তুমি চমত্কার লিখ, তুমি কেন এটাকে সিরিয়াসলি নিচ্ছ না। সেই থেকেই শুরু’। এরপর প্রথমে নতুন বার্তা অনলাইন, পরবর্তীতে চ্যানেল নাইনে কর্মজীবনের চার বছর কেটে যায়। সেখান  থেকে এখন খবর পড়ছেন ২৪ ঘণ্টার সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন ডিবিসিতে।

খবর পড়ার পাশাপাশি নাম লিখিয়েছেন উদ্যোক্তা হিসেবেও। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানোই আমার নেশা। সে শখ থেকেই ‘ভ্রমিয়া সুখী’ নামে গ্রুপও খুলি। বেশ সাড়া পাওয়ায় কয়েকটা ট্যুরও করেছি। এরপর অনলাইন বিজনেসে আসাটা অনেকটা হঠাত্ বৃষ্টির মতো। বলা যায়, শাড়ির প্রতি প্রেম ছিল আগে থেকেই। চিন্তা করলাম ইনকাম সোর্স কিভাবে বাড়ানো? এ ভাবনা থেকেই চাকরির পাশাপাশি ‘সাথীস ডিজাইন’ অনলাইন ব্যবসার উদ্যোগ। শাড়ির প্রতি দুর্বলতার কারণেই আগে থেকে শাড়ির বড়োসড়ো কালেকশন ছিল। পরে সেটিই উদ্বুদ্ধ করেছে ব্যবসার উদ্যোক্তা হতে। পরিচিত-অপরিচিত অনেকের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়ার পর সিরিয়াসলি নেই। কেমন চলছে সাথীস ডিজাইন? উত্তরে জানান, যদিও সংবাদ উপস্থাপনা আমার ফুলটাইম জব, তারপরও যেকোনো কাজ ভালোভাবে করার দৃঢ়তা থেকেই বিজনেসকে পাকাপোক্ত করতে কাজ করে চলেছি। অল্প সময়ে শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা আর ক্রেতাদের যে সাড়া পেয়েছি তা সত্যি চোখে জল আসার মতো আনন্দের।

কোনটা চ্যালেঞ্জের? ব্যবসা নাকি খবর পড়া? তিনি বলেন,            আমার কাছে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই চ্যালেঞ্জের। আর অবশ্যই সংবাদ উপস্থাপনা ও ব্যবসা— দুটোই দুই রকম চ্যালেঞ্জের। যে কোনো পরিস্থিতিতে মাথা ঠাণ্ডা রেখে সুন্দর, শুদ্ধভাবে খবর পড়া সত্যি চ্যালেঞ্জের। অপরদিকে লাভের বিপরীতে লোকসানের ঝুঁকি নিয়ে   ব্যবসা করা সহজ নয়। সাথীস ডিজাইনকে  দেশ-বিদেশে ব্র্যান্ড       হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখেন জান্নাত সাথী। পাশাপাশি              ‘ভবঘুরে কফি শপ’ দেয়া আর মাতৃত্বের কারণে যেসব নারী          ক্যারিয়ার থেকে পিছিয়ে পড়ে— তাদের জন্য কিছু করার খুব ইচ্ছা রয়েছে তার।