সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য ছায়াতল

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৯, ১৯:৪৫

ঢাকা কলেজ থেকে রসায়ন বিজ্ঞানে মাস্টার্স করা কুষ্টিয়ার ছেলে বি এম সোহেল রানা। ২০১৬ সালের মার্চের কোনো এক বিকেলে বসে ছিলেন শ্যামলী শিশু পার্কে। রকিব নামে এক টোকাই ছেলে এসে মুড়ি খাওয়ার জন্য তাঁর কাছে কিছু টাকা চেয়ে বসে। তিনি বললেন, ‘তুমি তোমার নাম লিখতে পারলে মুড়ি খাওয়ার টাকা পাবে।’ ছেলেটা অনেকক্ষণ চেষ্টা করে না পারলেও সোহেল রানা তাকে মুড়ি খাওয়ায়। এবার ছেলেটা বলে, ‘ভাইয়া, কাল কি আবার নাম লেখা শিখতে আসব?’ সোহেল রানা পরদিন অপেক্ষা করতে থাকেন রাকিবের। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে দেখতে পান, রাকিব তো আসছেই, সঙ্গে দুজন বন্ধুও আছে। তারাও নাকি নাম লেখা শিখতে চায়। এখান থেকেই শুরু। একে একে বাড়তে থাকে এই অক্ষরজ্ঞান শিখতে আসা শিশুদের সংখ্যা। শ্যামলী শিশু পার্কের এক কোনায় চলতে থাকে সোহেলের পাঠশালা। এক পর্যায়ে শ্যামলী শিশু পার্কে ঘুরতে আসা কয়েকজন মেডিক্যাল শিক্ষার্থী সোহেল রানাকে প্রস্তাব করে বসেন, একটা সংগঠন ঘোষণা করে সবাই এই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করবেন। আর সবার সম্মতিতে এই সংগঠনের নাম দেওয়া হয় ‘ছায়াতল বাংলাদেশ’। ২০১৬ সালের মার্চ মাস থেকে পথচলা ছায়াতল বাংলাদেশের বর্তমান সুবিধা পাওয়া শিশুর সংখ্যা ১০০ জন। এতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন প্রায় ৩৩ জন এবং উপদেষ্টা আছেন দশজন। এই ফাউন্ডেশনের আওতায় থাকা শিশুরা ফ্রি শিক্ষা সামগ্রী পায়। এছাড়া তারা পেয়ে থাকে পরিবারসহ মেডিক্যাল সুবিধা, খেলাধুলার সুযোগ এবং খেলাধুলার সামগ্রী, বিভিন্ন উত্সবে নতুন পোশাক এবং বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টারে বেচে যাওয়া খাবারসহ আরো অনেক সুবিধা। সংগঠনটির প্রধান উদ্যোক্তা সোহেল রানা বলেন, ‘আত্মতৃপ্তি, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং অসহায় শিশুদের স্বনির্ভর করার প্রয়াস আমাকে এই কাজের সঙ্গে বেঁধে ফেলেছে। বর্তমানে আমাদের ছায়াতল বাংলাদেশ সংগঠনের আওতায় তিনটি স্কুল পরিচালিত হচ্ছে। যার একটি শ্যামলী, দ্বিতীয়টি দক্ষিণ কেরানিগঞ্জ এবং তৃতীয়টি মোহাম্মাদপুরে অবস্থিত।’ কথা হয় এই ছায়াতল বাংলাদেশ সংগঠনের একজন উপদেষ্টা কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মানুষের জন্য কিছু করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা আমার সবসময়ই ছিল। সেই আকাঙ্ক্ষা থেকেই এই সংগঠনের সঙ্গে আমার কাজ করা।’