উড়িয়ে দিলেন
বিবাদের গুঞ্জন
স্পোর্টস ডেস্ক
ভারতীয় জাতীয় দলের কোচের পদের জন্য আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা গতকালই শেষ হয়ে গেছে। যে সকল আবেদন বোর্ড অব কনট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) সদর দপ্তরে জমা হয়েছে, তাদের মধ্য থেকে কাউকে নয়, বরং এখনো রবি শাস্ত্রীকেই কোচ হিসেবে পছন্দ অধিনায়ক বিরাট কোহলির।
আপাতত শাস্ত্রী, বোলিং কোচ ভারত অরুণ, ব্যাটিং কোচ সঞ্জয় ব্যাঙ্গার ও ফিল্ডিং কোচ এস. শ্রীধরের মেয়াদ ৪৫ দিন বাড়ানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরকে সামনে রেখে। সিরিজ চলবে আগামী তিন আগস্ট থেকে তিন সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ভারত নিজেদের মাটিতে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ শুরু করবে। এর আগেই কোচের নাম ঘোষণা করে দেবে বিসিসিআই।
কোহলি অবশ্য মনে করছেন, বিসিসিআইয়ের উচিত শাস্ত্রীকেই রেখে দেওয়া। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে লম্বা সিরিজ খেলতে দেশ ছাড়ার আগে তিনি বলেন, ‘রবি ভাই আমাদের কাছের মানুষ। তার প্রতি আমাদের আস্থার শেষ নেই। তাকে সবাই সম্মান করে। আর আমরা এক সঙ্গে দারুণ করেছি। আমি খুবই খুশি হবো যদি কোচ হিসেবে তাকেই রেখে দেওয়া হয়। বোর্ড আমার কাছ থেকে পরামর্শ চায়নি এখনো। চাইলে এটাই বলব। এর বাইরে আমি আর কিছু জানি না।’
২০১৭ সালে সাবেক কোচ অনিল কুম্বলের বিদায়ের পর জুলাইয়ে কোহলিদের পছন্দের ভিত্তিতেই প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন শাস্ত্রী। শাস্ত্রী এর আগেও ২০১৪ আগস্ট থেকে ২০১৬ জুন পর্যন্ত দলের ক্রিকেট পরিচালক ছিলেন। তার অধীনে ভারত ওয়ানডেতে অনেক বড় কোনো সাফল্য না পেলেও ধারাবাহিক ভাবে পারফরম করে গেছে। তবে, শাস্ত্রীর সবচেয়ে বড় অর্জন হলো প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভারতকে টেস্ট সিরিজ জেতানো।
কোচ শাস্ত্রী ও তার বর্তমান সহকর্মীরা সরাসরি সাক্ষাত্কার দেওয়ার সুযোগ পাবেন বিসিসিআইয়ের ক্রিকেট অ্যাডভাইসরি কমিটির (সিএসি) কাছে। তিন সদস্যের কমিটিতে আছেন বিশ্বকাপজয়ী প্রথম ভারতীয় অধিনায়ক কপিল দেব, সাবেক ওপেনার ও কোচ অংশুমান গায়কোড় ও ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের প্রথম অধিনায়ক শান্তা রঙ্গস্বামী। এর আগে এই কমিটির দায়িত্বে ছিলেন শচীন টেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলি ও ভিভিএস লক্ষ্মণ। তারাই ২০১৬ সালে অনিল কুম্বলে ও এক বছর বাদে শাস্ত্রীকে নিয়োগ দিয়েছিলেন।
কোহলি জানিয়েছেন, সিএসির পক্ষ থেকে এখনো তার সাথে কেউ যোগাযোগ করেনি। তিনি বলেন, ‘সিএসি’র কেউ এখনো আমাদের সাথে যোগাযোগ করেনি। হ্যাঁ, আমার পরামর্শ যদি চায় তাহলে আমি অবশ্যই তাদের সাথে কথা বলব।’
সম্প্রতি কিছু ভারতীয় গণমাধ্যম দাবি করেছিল যে, বিশ্বকাপের সময় থেকেই নাকি বিরাট কোহলির সাথে দ্বন্দ্ব চলছে রোহিত শর্মার। কোহলি অবশ্য এই গুঞ্জন একেবারেই উড়িয়ে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি গত কদিন ধরে এসব নিয়ে অনেক কিছুই শুনছি। ব্যাপার হলো, এসব ব্যাপারে আমরা কেবল বাইরে থেকেই শুনি। সত্যি বলতে আমার কাছে এসব স্রেফ বিভ্রান্তিকর। এসব পড়তেও খুব অসহ্য লাগে। আমি ১১ বছর ধরে খেলছি। রোহিত ১০ বছর ধরে খেলছে। এতদিন বাদে এসব শোনা খুবই অসম্মানজনক। আমাদের চারপাশে যেন কেবল মিথ্যাই ভেসে বেড়াচ্ছে।’
কোহলি মনে করেন, ড্রেসিংরুমে সম্প্রীতি ও বিশ্বাস না থাকলে ভারতীয় ক্রিকেট দলের এতদিনকার সব অর্জনের কোনোটাই সম্ভব হতো না। তিনি বলেন, ‘আমি জানি ড্রেসিংরুমের পরিবেশটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভালো করার জন্য কতটা জরুরি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমরা এখন যে অবস্থানে আছি, তার পেছনে এই পরিবেশের বড় একটা ভূমিকা আছে। আমরা টেস্টে সাত থেকে র্যাংকিংয়ের এক-এ উঠেছি। ওয়ানডেতে আমরা ধারাবাহিক, টি-টোয়েন্টিতে শক্তিশালী। পারস্পরিক সম্প্রীতি, বিশ্বাস আর শ্রদ্ধা না থাকলে এর কোনোটাই সম্ভব হতো না।’
