চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলী এলাকায় বুধবার রাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সারোয়ার হোসেন ওরফে বাবলা তিন দিন আগেই প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছিলেন। ফোনে দেওয়া ঐ হুমকিতে তাকে বলা হয়েছিল, তোর সময় শেষ, যা খাওয়ার খেয়ে নে। এমন দাবি করেছেন নিহত সারোয়ারের বাবা আবদুল কাদের।
বুধবার রাতে বিএনপির প্রার্থী ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনি গণসংযোগে অংশ নেওয়ার সময় সরোয়ার গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। গুলিতে আহত হন এরশাদ উল্লাহসহ চার জন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সারোয়ারের ঘাড়ে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতেও সেই দৃশ্য দেখা যায়।
সারোয়ারের বাবা আবদুল কাদের বলেন, গত রবিবার সন্ত্রাসী রায়হান ফোন করে আমার ছেলেকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিল। তাকে প্রায়ই হুমকি দিতেন বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী, তার সহযোগী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ এবং মো. রায়হান। এ কারণে সরোয়ার সব সময় সতর্ক থাকত এবং লোকজন সঙ্গে রাখত।
বুধবার রাতের ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন আবদুল কাদের নিজেও। তিনি বলেন, গুলির শব্দ শুনেছিলাম কিন্তু প্রথমে বুঝতে পারিনি যে আমার ছেলেই টার্গেট। পরে দেখি রক্তাক্ত অবস্থায় সে পড়ে আছে। রিকশায় করে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই ছেলেটা আমার কোলে মারা যায়।
এর আগে গত ৩০ মার্চ নগরের বাকলিয়া এলাকায় একটি প্রাইভেট কারে গুলি চালিয়ে সারোয়ারকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ঐ ঘটনায় দুই জন নিহত হন। পরবর্তী তদন্তে পুলিশ জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছোট সাজ্জাদ ও তার সহযোগীদের নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়েছিল। বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন ইত্তেফাককে জানান, সরোয়ারের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহতরা হাসপাতালে চিকিত্সাধীন।
রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি : এদিকে, নিহত সারোয়ারের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। তিনি নিজেকে যুবদল নেতা বলে পরিচয় দিতেন। সম্প্রতি তিনি বিয়ে করেন। তার বিয়েতে এরশাদ উল্লাহ, আসলাম চৌধুরীসহ কয়েক জন হাই প্রোফাইল বিএনপি নেতা উপস্থিত ছিলেন। কারাগার থেকে জামিনে মুক্তির পর থেকে তিনি বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। তবে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, সারোয়ার দলের কেউ নন। সাবেক মহানগর জামায়াতের আমির শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে সারোয়ারের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেছে।
