উদ্যোক্তা ও সমাজসেবায় অবদান রাখায় ১২ নারীকে সম্মাননা

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৫২

সংগ্রামী, উদ্যোক্তা ও মানবিক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ময়মনসিংহে ১২ জন নারীকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) জেলা রোভার ভবন মিলনায়তনে ‘আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস-২০২৫’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

‘গ্রামীণ নারীর উদ্যোগে টেকসই উন্নয়ন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে স্থানীয় সংগঠন নিষ্ঠা উন্নয়ন সংঘ এবং বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি)।

সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন— সদর উপজেলার চর সিরতা ইউনিয়নের উমা রানী চৌধুরী (সমাজসেবা), শিউলী আক্তার (জীবন সংগ্রামী), চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়নের হালিমা খাতুন (প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা), আনোয়ারা খাতুন (সমাজকর্ম), চর ঈশ্বরদিয়া ইউনিয়নের হোসনা আক্তার (নারী উদ্যোক্তা ও জীবন সংগ্রামী), আমিনা খাতুন (জীবন সংগ্রামী), ভাবখালী ইউনিয়নের ফরিদা ইয়াসমিন (সমাজসেবা), রিনা আক্তার (জীবন সংগ্রামী), খাগডহর ইউনিয়নের রীতা রানী বর্মন (জীবন সংগ্রামী), তাহসিনা আক্তার রূপসী (উদ্যোক্তা ও সমাজকর্মী), দাপুনিয়া ইউনিয়নের জমিলা খাতুন (প্রসবকালীন সেবা) ও রাজিয়া খাতুন (উদ্যোক্তা)।

দিবস উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট লীলা রায়-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনএনআরসি’র ময়মনসিংহ ফোকাল পার্সন স্বাধীন চৌধুরী আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন। 

তিনি বলেন, গ্রামীণ নারীরা কেবল সমাজের অবহেলিত অংশ নয়, তারা উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অন্যতম অংশীদার। তাদের প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি জাতীয় পর্যায়ে আরও জোরালোভাবে প্রতিফলিত হওয়া উচিত।

এ সময় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক মীর আকরাম উদ্দীন আহম্মদ, ফুলবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ড. গোপাল চন্দ্র সর্দার এবং অধ্যক্ষ কাব্য সুমী সরকার।

বক্তারা বলেন, কৃষিপ্রধান দেশের গ্রামীণ জীবনের মূল্যবোধ টিকিয়ে রাখতে নারীদের ভূমিকা অপরিসীম। সমাজ-সংসারে তাদের নিঃস্বার্থ শ্রম ও মানবিক মমত্ববোধকে সম্মান জানানোই প্রকৃত অগ্রগতি। বাংলাদেশের গ্রামীণ নারীরা কৃষি, ক্ষুদ্র উদ্যোগ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং সামাজিক নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।

অনুষ্ঠানে নারীর অধিকার, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও বাজার সংযোগে সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরে সম্মাননা প্রাপ্ত নারীরা তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা ও সংগ্রামের গল্প তুলে ধরেন।

এ সময় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, উন্নয়নকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/এএইচপি