আফগানিস্তানে ছয় মাসে চার হাজার বেসামরিক মানুষ হতাহত

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৯, ২১:১৫

তালেবানের চেয়ে আফগান ও ন্যাটো বাহিনীর হাতেই বেশি মানুষ নিহত

রয়টার্স

আফগানিস্তানে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রায় চার হাজার বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছে। ইসলামপন্থি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আফগান সরকারি বাহিনী ও ন্যাটো জোটের অভিযানে এই হতাহতের ঘটনাগুলো ঘটেছে। আফগানিস্তানে জাতিসংঘের মিশনের একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স আরো জানিয়েছে, তালেবানসহ অন্য জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর তুলনায় আফগান ও ন্যাটো বাহিনীর হাতেই বেশিসংখ্যক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে তিন হাজার ৮১২ বেসামরিক হতাহত হয়েছে। জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে দেশটির সরকার এবং ন্যাটো বাহিনীর অভিযানে এসব বেসামরিক প্রাণ হারিয়েছেন। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে আফগান বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে ৪০৩ জন বেসামরিক নাগরিক। আর আন্তর্জাতিক বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে ৩১৪ জন। দুই বাহিনীর হাতে নিহতের সংখ্যা ৭১৭। একই সময় তালেবান ও ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর হাতে নিহত হয়েছে ৫৩১ জন বেসামরিক নাগরিক। হতাহতের এ সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩১ শতাংশ বেশি। ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি তিন জনে একজনের মৃত্যু হয়েছে স্থল লড়াইয়ে, পাঁচ ভাগের এক ভাগ মারা গেছে রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে। এছাড়া ১৪ শতাংশ নিহত হয়েছে দূর-নিয়ন্ত্রিত হামলায়। তবে এই প্রতিবেদন নিয়ে আফগান সরকার, আফগান সেনাবাহিনী কিংবা আন্তর্জাতিক জোটের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এমন এক সময়ে জাতিসংঘের  প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হলো যখন আফগান সরকারের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনায় বসার প্রস্তাবে নতুন করে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তালেবান। কাতারে তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের মুখপাত্র সুহাইল শাহীন সম্প্রতি বলেছেন, বিদেশি সেনাদের প্রত্যাহারের পরেই আলোচনা হতে পারে। এর আগে শনিবার আফগানিস্তানের শান্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আব্দুল সালাম রাহিমি বলেছিলেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সরকারের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল সরাসরি তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় বসবে।

প্রায় এক বছর ধরে তালেবানের সঙ্গে সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ১ সেপ্টেম্বরের আগেই শান্তি আলোচনায় একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চান মার্কিন মধ্যস্থতাকারীরা।