খুলনা জেলা পরিষদ

৫ আগস্ট হারিয়ে যাওয়া নথি মিললো প্রশাসনিক কর্মকর্তার রুমে

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২৫, ২০:৩৬

খুলনা জেলা পরিষদ থেকে গায়েব হওয়া গুরুত্বপূর্ণ নথি সংস্থাটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহবুবুর রহমানের রুম থেকে উদ্ধার হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এসব নথি উদ্ধারের ঘটনায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহাবুবুর রহমানের অফিস কক্ষ থেকে ৬টি নথি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় সোমবার জেলা পরিষদের প্রধান সহকারী মো. সহিদুল ইসলাম খুলনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এর আগে গত ২১ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয় উক্ত নথির তথ্য চেয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জেলা পরিষদ শাখার উপ-সচিবের কাছে চিঠি দেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ৫ আগস্ট বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর খুলনা জেলা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ নথি গায়েব হয়ে যায়। এ নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় ৯ আগস্ট জেলা পরিষদের প্রধান সহকারী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খুলনা সদর থানায় জিডি ও ১৭ আগস্ট জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহাবুর রহমান বাদী হয়ে একই থানায় অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০জনকে মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ৫ আগস্ট বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে বৈষম্যবিরোধী কোটা সংস্কার ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০০ থেকে ২৫০ জন ব্যক্তি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে খুলনা জেলা পরিষদের প্রধান ফটক ভেঙে হামলা চালায়। এ সময় তারা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথিসহ ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা ৩৬ হাজার ৬২০ টাকার মালামাল পুড়িয়ে দিয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। এছাড়া আসামিরা ১ কোটি ৮৯ লাখ ৫ হাজার ৩৬০ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।

এজাহারে আরও বলা হয়, মালামাল চুরি করে নিয়ে যাওয়ার পর পরিদর্শন করে দেখা যায়, জেলা পরিষদ ভবনের প্রতিটি কক্ষে থাকা জিনিস আসামিরা নিয়ে গেছে। সেই সব জিনিসের মধ্যে রয়েছে, চেকবই, চেক রেজিস্টার, ক্যাশবই, ভাউবই,  জমি ইজারা রেজিস্টার, অডিট রেজিস্টার, খেয়াঘাট রেজিস্টার, ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত নথিসহ অন্যান্য নথিপত্র।

এদিকে গত ২১ এপ্রিল দুদক খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয় ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থ বছর পর্যন্ত যে সব প্রকল্প বাস্তবায়ন ও চলমান রয়েছে তার তালিকা ও বরাদ্দকৃত সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্রের তথ্য চেয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জেলা পরিষদ শাখার উপ-সচিবের কাছে চিঠি দেয়। কিন্তু জেলা পরিষদ থেকে দুদককে লিখিতভাবে জানানো হয়, ‘ওই নথিপত্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’

জেলা পরিষদ সূত্র জানায়, ২৮৪টি নথি উদ্ধার হলেও গুরুত্বপূর্ণ ৬টি নথি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সর্বশেষ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তারের  নেতৃত্বে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ওই নথির খোঁজে তল্লাশি শুরু করে। একপর্যায়ে নথিগুলো পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহাবুবুর রহমানের কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সোমবার জেলা পরিষদের প্রধান সহকারী মো. সহিদুল ইসলাম খুলনা সদর থানায় জিডি করেছেন।

নিজ অফিস থেকে গায়েব হওয়া গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার সম্পর্কে খুলনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘কিছু ফাইল কর্মচারীরা পেয়ে আমার আলমারিতে রেখেছিল। ওটা এমন কিছু না।’

এই নথিগুলো দুদক তলব করেছিল কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি বর্তমানে আমার স্মরণে নেই।

খুলনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তার বলেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহবুবুর রহমানের কক্ষে সোমবার দুপুরে প্রকল্পের ফাইল পাওয়া গেছে। যে ফাইলগুলো পাওয়া গেছে এই ফাইলগুলো গত ২১ এপ্রিল দুদক অনুসন্ধানের জন্য আমাদের কাছে চেয়েছিল। ২০১৮-১৯ থেকে ২৩ ২৪ অর্থবছরের প্রকল্প। এডিপি ও রাজস্ব তত্ত্বাবধায়নে জেলা পরিষদ যে সব প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে সেই তথ্য আছে ফাইলে। গত ৫ আগস্টের পর আমরা যে ফাইলগুলো বা নথি উদ্ধার করেছিলাম তার ভেতরে এগুলো ছিল না।

তিনি আরও বলেন, ফাইল উদ্ধারের বিষয়টি স্থানীয় সরকার ও দুদককে আমরা মৌখিকভাবে জানিয়েছি। নথি উদ্ধারের ঘটনায় আমরা সাধারণ ডায়েরি করছি। যেহেতু ৫ আগস্টের পর নথি হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় একটি জিডি ও মামলা হয়েছিল।

ইত্তেফাক/এপি