বাংলাদেশে ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে যা করণীয়

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৯, ২১:৩০

 

ডা. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম

ডে ঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া জ্বরের কাছে আমাদের আত্মসমর্পণ দেখে সত্যি অবাক লাগে। মশা মারার ওষুধ অকার্যকর। দোষ কার? আমাদের আছে দক্ষ জনবল, উন্নত প্রশিক্ষিত গবেষক দল। যাদের সঙ্গে সরকার ও সিটি করপোরেশনের মিটিং করলে একটা সুরাহা হতে পারে। ২০১০ সালের অক্টোবরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দক্ষিণ এশিয়ার ভেক্টরবাহিত রোগের প্রতিরোধে ১৫ দিনব্যাপী ট্রেনিংয়ে বৈজ্ঞানিক হিসেবে তামিলনাড়ুর মাধুরাইয়ে জেনেটিক মডিফাইড মসকিউটো (Genetic Modified Mosquito)-এ অংশগ্রহণ করি। ভারতীয়, আফ্রিকান এবং অক্সিটেকের বৈজ্ঞানিকগণের ট্রেনিং থেকে যা পেয়েছি তা হলো বাংলাদেশে মশাবাহিত এই রোগগুলো প্রতিরোধে জিএমএম এবং উলভেচিয়া অ্যাসোসিয়েটেড (Wolbachia Associated Mosquitoes) মশা ব্যবহার করে এই অপ্রত্যাশিত সংক্রমণ কমানো যেতে পারে। কিন্তু তার জন্য দরকার সরকারের সদিচ্ছা ও আর্থিক সাপোর্ট। তা ছাড়া বাংলাদেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব ভেক্টর বর্ন ডিজিজ অ্যান্ড রিসার্চ (Sheikh Hasina Institute of Vector Borne Diseases & Research) নামে একটি ইনস্টিটিউট করা যেতে পারে। যেখানেই ইমার্জি অ্যান্ড রিইমার্জিং ডিজিজের গবেষণা করা হবে এবং নিত্যনতুন গবেষণা আমাদেরকে নতুন পথ দেখাবে। আমরাও সরকারের সঙ্গে দেশের মানুষের মঙ্গলে কাজ করতে পারব।

দ্বিতীয়ত, মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হচ্ছে মশার বংশ বৃদ্ধির স্থান অপসারণ করা। এর জন্য যে কাজটি জরুরি, সেটা হলো জনগণকে মিডিয়া, টেলিভিশন এবং অন্যান্য প্রচারমাধ্যমে অ্যাডিস মশার বংশ বৃদ্ধির স্থানগুলো নিধন করা যায়। ফাইরিথ্রাম-জাতীয় মশা নিধনকারী ওষুধ অকার্যকর হলে ম্যালাথিয়ন-জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। ল্যাবে অ্যাডিস মশা বৃদ্ধি করে সেখানে মশা নিধনকারী ওষুধগুলো কার্যকারিতা বা রিসিসটেন্স পরীক্ষা করা যেতে পারে।

তৃতীয় যে বিষয়টি এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার সেটা হলো ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে বর্তমানে কী করণীয়, পরবর্তী সময়ে কী করণীয় তা ঠিক করতে একটি আন্তর্জাতিক, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি দুই দিনের কনফারেন্স করা যেতে পারে। যেটা আয়োজনে এবং পৃষ্ঠপোষকতায় থাকবে দুই সিটি করপোরেশন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সমন্বয় করার জন্য আমি নিজে থাকতে আগ্রহী। কারণ এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আমার নিয়মিত যোগাযোগ হয়। আশা করি, দাওয়াত করলে বিষয়টি গুরুত্ব দেবেন। আমি চাই বাংলাদেশের পাঁচ জন, ভারতের তিন জন, মালেশিয়ার দুই জন, শ্রীলঙ্কার এক জন, থাইল্যান্ডের এক জন, আফ্রিকার এক জন, ইংল্যান্ডের এক জন, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার দুই জন বিশেষজ্ঞ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাঁচ জন প্রতিনিধি এবং দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র মহোদয়সহ ১০ জন প্রতিনিধি। মোট ৩১ সদস্যদের এই মিটিং থেকে আগামী পাঁচ বছরের কার্যকরী স্ট্র্যাটিজি ঠিক করা যাবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। এটি আয়োজনে বিদেশিদের আসা-যাওয়ার ভাড়াসহ যে টাকা লাগবে, সেটি দুই সিটি করপোরেশনের এক বছরের বাজেটের একটি নগণ্য অংশ মাত্র।

পরিশেষে, নিবেদন এই যে, সব ধরনের জটিলতা এড়িয়ে, এ দেশের মানুষের কল্যাণে, সিটি করপোরেশনের গুরুদায়িত্ব পালনে আমার এই তিনটি প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিলে আমার ও আপনাদের এই দেশের সাধারণের প্রতি অর্পিত দায়ভার কিছুটা হলেও পালন করা হবে। আর সেটাই হবে আমাদের সার্থকতা।

n লেখক : ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ বিশেষজ্ঞ

ও সহকারী অধ্যাপক

হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ।