দেশ এখন ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে ইন্টারনেটের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকিও। অনলাইনে বিদ্বেষ ছড়ানো ও জালিয়াতি করার প্রবণতাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।
ডিজিটাল মাধ্যমে হয়রানি ও ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার এখন চলছে অহরহ। বর্তমান সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে মেসেজিং অ্যাপ, সকল ক্ষেত্রেই আগের চেয়ে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের তথ্য ঠিক কে বা কারা দেখতে পারে, কে তা ছড়ানোর এখতিয়ার রাখে; এমন সব ভাবনাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন ব্যবহারকারীরা। ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেয়, এমন অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর জনপ্রিয়তাও বাড়ছে।
বিটিআরসি’র তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত দেশে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩ কোটি ৪০ লাখের বেশি। এছাড়াও, দেশের ৫৪ দশমিক ৮ শতাংশ বাসা বাড়িতে রয়েছে ইন্টারনেটের সংযোগ। তবে ইন্টারনেটের সহজলভ্য হওয়ার পরে মহামারির মত দেখা দিয়েছিল ব্যক্তিগত তথ্য হ্যাকিং এবং ছবি কিংবা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার মতো ভয়াবহ অপরাধ। এসব দেখে ব্যবহারকারীদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়তে থাকে। একইভাবে, ফ্রিল্যান্সার ও পেশাজীবীরাও এখন আরও সচেতন হচ্ছেন ক্লায়েন্টের চুক্তিসহ সংবেদনশীল বিভিন্ন তথ্য নিরাপদ রাখার বিষয়ে।
বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরাও এমন প্ল্যাটফর্ম বেছে নিচ্ছেন, যেখানে তারা নিরাপদ তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা, গোপনীয়তা রক্ষা এবং তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহারে পূর্ণ স্বচ্ছতা পাবেন। ইমোর মত প্ল্যাটফর্মগুলো বর্তমানে তাদের অ্যাপে ব্যবহারকারীদের জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করছে। তবে এখন অ্যাপটি শুধুমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং নিরাপদ যোগাযোগের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইমো ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন,’ ‘সিকিউর লগইন,’ ও ‘অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন’ -এর মতো ফিচার নিয়ে আসায় ব্যবহারকারীরা তাদের গোপনীয়তা নিয়ে অনেক বেশি আশ্বস্ত থাকেন। তাদের প্রতিটি কল ও চ্যাট ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ দ্বারা সুরক্ষিত থাকে।
অর্থাৎ, অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষ, এমনকি ইমো কর্তৃপক্ষও কল বা মেসেজে প্রবেশাধিকারের সুযোগ পান না। ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল অপরিচিত কেউ দেখতে পাওয়া ও অন্যের খুঁজে পাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে এর ‘প্রাইভেসি মোড।’ ‘ডেটা সেফটি সার্টিফিকেশন’ ও ‘স্ক্রিনশট ব্লক’ -এর কারণে অপর পাশের কেউ ভিডিও কল চলাকালে বা মেসেজ আদান প্রদানের সময় স্ক্রিনশটও নিতে পারবে না।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, মেসেঞ্জার অ্যাপ ও ভিডিও কলিং প্ল্যাটফর্মগুলো এখন শুধু বিনোদনের জায়গা নয়, বরং কাজ, ব্যবসা ও শিক্ষারও অপরিহার্য অংশ। ব্যবহারকারীর সম্মান, নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষা তাই এখন আর আতঙ্ক নয়, বরং ব্যবহারকারীর একটি ডিজিটাল সক্ষমতা। এই সক্ষমতা তাদের আরও সচেতন, নিরাপদ ও স্বাধীন করে তুলবে।
