সফররত জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো বলেছেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশের জন্য একটি বিশাল চাপ। এই চাপ সামলাতে বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব অব্যাহত রাখা জরুরি। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনেও সবাইকে কাজ করতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনোর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল জাপানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে গতকাল সকালে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (মানবসম্পদ উন্নয়ন) সরওয়ার কামাল, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদেরকে স্বাগত জানান।
বেলা ১২টার দিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশন এলাকার সাইড ম্যানেজমেন্ট অফিসে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন জাপানের প্রতিনিধিরা। চার নারীসহ ১২ রোহিঙ্গার নেতৃত্ব দেন ক্যাম্প-৪ এর বাসিন্দা মাস্টার এনামুল হাসান। তিনি জানান, জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের কাছে জানতে চান যে, আগামীকাল প্রত্যাবাসন করা হলে তারা যাবেন কি না? এর উত্তরে তারা (রোহিঙ্গারা) বলেছেন, মিয়ানমার নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিলেই তারা ফিরে যেতে প্রস্তুত। এটা না হলে, তারা ফিরিয়ে নিয়ে আবারো ২০১৭ সালের ঘটনার পুনরাবৃত্তি করতে পারে। তাই সম্মান ও স্বাধীনভাবে বাঁচার নিশ্চয়তা না পেলে তারা ফিরে যাবে না।
তাদের দলের নারী সদস্য ছুরা খাতুন, হামিদা খাতুন, মনোয়ারা ও জুবায়রা বলেন, রোহিঙ্গা নারীদের ওপর পাশবিক নির্যাতনের বিচার পেতে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
এরপর ক্যাম্পে নিয়োজিত স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পরিদর্শনকালে ইউএনএইচসিআর-এর কক্সবাজারের প্রধান মারিন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইফতেখার উদ্দিন বায়েজীদ, উখিয়া থানার ওসি আবুল মনসুর, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শরণার্থী বিষয়ক ডেস্কের পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।
