বিএসটিআই নিবন্ধিত পাস্তুরিত দুধে ‘মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান’ থাকার অভিযোগের পেছনে ‘আমদানিকারকদের কারসাজি’ আছে কি না, সেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, সরকার যখন দুধের খামার করে গ্রামের মানুষকে স্বনির্ভর হতে উত্সাহিত করছে, দেশের চাহিদা মিটিয়ে খাদ্যপণ্য রপ্তানিতে জোর দিচ্ছে, তখনই হঠাত্ এই তথ্য দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচির পথে কেন বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে? দুধে অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি নিয়ে গুজব ছড়িয়ে রপ্তানিকাজে বাধা সৃষ্টি করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিনি বলেছেন, সবাইকে নিজেদের ঘরবাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার সকালে লন্ডন থেকে টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের বিশেষ জরুরি সভায় যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী ছেলেধরা প্রসঙ্গে বলেন, ‘গুজবে কান দেবেন না। কাউকে সন্দেহ হলে পুলিশের হাতে তুলে দিন। গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে গণপিটুনি দিয়ে মানুষ হত্যা জঘন্য অপরাধ। আর মিডিয়ার যারা আছেন তাদের বলব, অহেতুক ভুল তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না।’ গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি না, হঠাত্ করে একজন প্রফেসর সাহেব কী পরীক্ষা চালালেন। আর এই পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে আদালতে রিট হলো। একে একে সব কোম্পানির দুধ উত্পাদন বন্ধ। এর ফলে দুধের ঘাটতিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। যারা খামার করছে, তারাই-বা কীভাবে জীবন যাপন করবে আর গরুকেই-বা কী খাওয়াবে? অথচ আমদানিকৃত গুঁড়ো দুধের ব্যাপারে কোনো পরীক্ষা হয় না।’ তিনি বলেন, গবাদি পশুকে রোগমুক্ত রাখতে অনেক সময় অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো হয়। সেক্ষেত্রে দুধে কিছুটা অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি থাকতে পারে। তবে দুধের যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তা থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকার কাজ করছে।
শেখ হাসিনা বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে মানুষকে পিটিয়ে মেরে ফেলছে। ন্যক্কারজনকভাবে একজন মাকে পিটিয়ে মেরে ফেলল। আজ সেই মায়ের ছোট্ট সন্তানটির কী অবস্থা ভাবুন তো!
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, কোরবানির ঈদের সময় মানুষ বাড়িতে যাবে। যারা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে বা যাদের শরীরে এই বীজটা রয়ে গেছে, তারা আবার নিজ নিজ এলাকায় গেলে পরে সেখানে যদি মশা কামড় দেয়, তাহলে অন্য কেউ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। সেজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। অ্যাডিস মশা বংশবিস্তার করে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে। সে কারণে বৃষ্টির পানি যেন কোথাও জমে না থাকে, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। যত দূর শোনা গেছে, অ্যাডিস মশা বেশিরভাগ সময় পায়ের দিকে কামড়ায়। সে কারণে পা ঢেকে রাখতে হবে, ঘুমানোর সময় মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে হবে। ডেঙ্গুর বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ সহযোগী সংগঠনকে আহ্বান জানাব, আমাদের কর্মীরাও যেন মাঠে নেমে পড়ে।’ ছাত্র, শিক্ষক, পেশাজীবী থেকে শুরু করে সব ধরনের সংগঠনকে এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এয়ারকন্ডিশনের পানি, ফ্রিজের পানি, ফুলের টব বা ফুলদানির পানিসহ টায়ার, ভাঙা হাঁড়িতে পানি জমে থাকে। সবাইকে পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেওয়া দরকার।’ পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকার দুই মেয়রের সঙ্গে কথা বলে নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি সবাইকে বলব, মশা যেন ডিম পাড়তে না পাড়ে, মশার লার্ভা যেন তৈরি না হয়, বংশবিস্তার করতে না পারে। এটা প্রত্যেক মানুষকেই করতে হবে, এটাই বাস্তবতা।’ সাংবাদিকদেরও এ বিষয়ে সচেতন থাকার তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সাংবাদিকদের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে হয়, সেজন্য নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। কর্মস্থলে মশা যেন কামড়াতে না পারে, বংশবিস্তার করতে না পারে।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় করণীয় ঠিক করতে আওয়ামী লীগ এই জরুরি সভার আয়োজন করে। সভা চলাকালে প্রধানমন্ত্রী দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মোবাইল ফোনে কল করে টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে সবার উদ্দেশে কথা বলেন।
