কৃষকদের লাভবান করতে প্রয়োজনে সারের দাম আরো কমানো হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। এছাড়া, কৃষিযন্ত্র ক্রয়েও প্রণোদনা বৃদ্ধি করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সম্মেলন কক্ষে কৃষকপর্যায়ে ধান-চালের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ ও চাল রপ্তানিবিষয়ক এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, আগামী মৌসুম থেকে কৃষক যাতে ধানের ন্যায্যমূল্য পায়, সে ব্যাপারে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। কৃষকরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ফসল ফলাবে, তারা ন্যায্যমূল্য পাবে না—এটা হতে পারে না। তিনি বলেন, কৃষিকে লাভজনক করতে হলে উত্পাদন খরচ কমাতে হবে। এজন্য কৃষকদের ধান কাটা, বপন ও মাড়াই করার যন্ত্র দেওয়া হবে।
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এখন থেকে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি সরকার ধান সংগ্রহ করবে। প্রয়োজনে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনে কম মূল্যে দরিদ্র মানুষদের দেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রত্যেক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাছে আর্দ্রতা মাপার যন্ত্র থাকবে, তিনি কৃষকদের বাড়িতে গিয়ে ধানের আর্দ্রতা পরিমাপ করবেন। মন্ত্রী বলেন, যদিও এই মুহূর্তে বিশ্ব বাজারে চালের দাম কম তারপরও আমাদের রপ্তানিতে যেতে হবে। চাল রপ্তানির ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
কৃষিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মফিজুল ইসলাম, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান।
নতুন ১৬২টি খাদ্য গুদাম তৈরি করা হবে
সভায় খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ২০১৭ সালে হাওরাঞ্চলে অকাল বন্যার পর সে সময় ৪০ লাখ টন চাল আমদানি করা হয়। সে চাল এখনো রয়ে গেছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবারের বোরো মৌসুমে। তিনি বলেন, কৃষকদের বাঁচাতে স্থায়ী সমাধানের পথে যেতে হবে। সারা দেশে নতুন ১৬২টি খাদ্য গুদাম তৈরি করা হবে জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, এতে আরো সাত থেকে আট লাখ টন খাদ্যশস্য মজুত করা যাবে। জমিতে সেচের জন্য বিদ্যুতে সরকার যে প্রণোদনা দেয় কৃষকরা তা পায় না। এ ব্যাপারে নজর দিতে হবে।
সভায় মিলাররা চালের রপ্তানি উন্মুক্ত করার দাবি জানান। তারা চাল রপ্তানির ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার কথা বলেন। মিলাররা বলেন, কৃষকদের বিনা সুদে বা স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হলে তা পরিশোধের জন্য তাড়াহুড়া করে ধান বিক্রি করতে হবে না। উল্লেখ্য, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ৪১ হাজার টন চাল রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে।
