সুদানের দারফুর অঞ্চলের আল-ফাশার শহরে মানবিক সংকট আরও তীব্র হওয়ায় বাংলাদেশের দাতব্য প্রতিষ্ঠান মাস্তুল ফাউন্ডেশন ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর মাঝে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে।
অবরোধ, বোমাবর্ষণ এবং খাদ্য ও পানি সংকটে আল-ফাশারের হাজারো মানুষ না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। এই মানবিক পরিস্থিতিতে সুদানের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশ থেকে প্রাথমিক পর্যায়ের সহায়তা পাঠিয়েছে এই দাতব্য প্রতিষ্ঠানটি।
মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক কাজী রিয়াজ রহমান বলেন- "মাস্তুল ফাউন্ডেশন বিশ্বাস করে, কোনো মানুষের ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে তার প্রতি মানবিকতা প্রদর্শন করা আমাদের নৈতিক এবং ধর্মীয় দায়িত্ব। আমাদের প্রতিটি কাজে আমরা সচেষ্ট থাকি যেন সৃষ্টিকর্তার নির্দেশিত পথে চলে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি। এবং আমরা বিশ্বাস করি মানবিক সহায়তা কোনো সীমানা চেনে না। দেশের অভ্যন্তর ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেখানে বিপদ ও দুর্যোগ, সেখানে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের প্রথম দায়িত্ব।আমাদের প্রতিটি সহায়তা, প্রতিটি দান এবং প্রতিটি মানবিক উদ্যোগ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে স্থায়ী প্রভাব ফেলে।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, "দেশের অভ্যন্তর ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেখানে বিপদ ও দুর্যোগ, সেখানে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের প্রথম দায়িত্ব। আমাদের প্রতিটি সহায়তা, প্রতিটি দান এবং প্রতিটি মানবিক উদ্যোগ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে স্থায়ী প্রভাব ফেলে।
কাজী রিয়াজ রহমান আরও উল্লেখ করেন যে, আগামী দিনে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য আরও সুদূরপ্রসারী। প্রতিষ্ঠানটি শুধু তাৎক্ষণিক সাহায্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না, বরং দেশের মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সমর্থনে দেশ-বিদেশে তাদের মানবিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে, ইনশাআল্লাহ।
মাস্তুল ফাউন্ডেশন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত একটি স্বনামধন্য ও সেবামূলক জাতীয় প্রতিষ্ঠান। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মাস্তুল ফাউন্ডেশন দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ও শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। আমাদের মানবিক কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: করোনা মহামারির সময় দাফন সেবা প্রদান; ২০২২ ও ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে জরুরি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ; এবং ২০২৩ সালের তুরস্কের ভূমিকম্পে বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা প্রদান। মাস্তুল ফাউন্ডেশনের অন্যতম সফল প্রকল্প "যাকাত স্বাবলম্বী" এর মাধ্যমে অসংখ্য অসহায় ব্যক্তি ও যুব সমাজের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, যা তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলছে। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিদিন বিনামূল্যে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিতদের একবেলার খাবার পৌঁছে দিচ্ছে. এছাড়াও, ঢাকার হাজারীবাগ বারইখালি এলাকায় নিজস্ব মাদ্রাসা, সেল্টারহোম, এতিমখানা ও মেহমানখানা রয়েছে।
উল্লেখ্য, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আইন অনুযায়ী, মাস্তুল ফাউন্ডেশনকে প্রদত্ত যেকোনো দান, যাকাত বা সাদাকা আয়করমুক্ত, যা দাতাদের জন্য আয়কর রেয়াত হিসেবে গণ্য হবে।
