কক্সবাজারের স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পর্যটন খাতের টেকসই বিকাশ এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আঞ্চলিক প্রচারণা বিষয়ক সেমিনার এবং প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে কক্সবাজার পৌরসভা।
শনিবার (২২ নভেম্বর) এ আয়োজনের উদ্ভোধন করেন আমন্ত্রিত প্রধান অতিথি স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিডি), স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ রেজাউল মাকছুদ জাহেদী । এ সময় কক্সবাজার ও এর পার্শবর্তী মহেশখালী, টেকনাফ, চকরিয়া পৌরসভার কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, নারী উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ দুই শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এ আয়োজনে সহযোগিতা করেছে স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্প- প্রবৃদ্ধি (PRABRIDDHI) যা অর্থায়ন করছে সুইজারল্যান্ড ও বাংলাদেশ সরকার, বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সুইসকন্ট্যাক্ট বাংলাদেশ।
কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক স্থানীয় সরকার উপ পরিচালক শামীম আল ইমরান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ণ ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান।, এ বি এম শওকত ইকবাল শাহীন, মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব), আইএমইডি, ড. মুনিরা বেগম, অতিরিক্ত সচিব, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি), পরিকল্পনা কমিশন, ড. রোকসানা তারান্নুম, যুগ্মসচিব, ইআরডি, হেলাল হোসেন, কান্ট্রি ডিরেক্টর, সুইসকন্টাক্ট বাংলাদেশ। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন প্রবৃদ্ধি (PRABRIDDHI) প্রকল্পের টিম লিডার পারভেজ মোহাম্মদ আশিক, এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন মডেল এবং বিভিন্ন পৌরসভার সাফল্য তুলে ধরেন প্রকল্পের পরিচালক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব ওয়াহেদুর রহমান।
পৌর প্রশাসক শামীম আল ইমরান কক্সবাজার পৌরসভায় PRABRIDDHI-এর অগ্রগতি তুলে ধরেন। ডিজিটাল সেবা, পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও পৌর পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমাদের লক্ষ্য হলো একটি টেকসই পৌর ব্যবসা মডেল প্রতিষ্ঠা করা, যা কমিউনিটিগুলো নিজেরাই স্বাধীনভাবে পরিচালনা করতে পারবে এবং প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও এর দীর্ঘমেয়াদী ধারাবাহিকতা নিশ্চিত হবে।"
বেসরকারি খাতের সহযোগী টার্টল ভেঞ্চার, একাডেমি অফ ইনফোরমেশন এন্ড টেকনোলজি (AIT) এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল প্রোফেশনাল ট্রেইনিং ইনস্টিটিউট (DIPTI) ডিজিটাল ইকোসিস্টেম শক্তিশালীকরণ ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে এলইডি কাঠামো, স্থায়িত্ব এবং স্থানীয় উদ্ভাবন নিয়ে আলোচনা ও একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
প্রধান অতিথি মোঃ রেজাউল মাকছুদ জাহেদী বর্তমান জাতীয় প্রেক্ষাপটে স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন (LED)-এর কৌশলগত গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন: স্থানীয় সম্পদ সংগ্রহ, ব্যবসায়িক সক্ষমতা বৃদ্ধি, এবং স্থানীয় প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করার জন্য স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের আরও বেশি অগ্রাধিকার দিতে হবে, এর প্রমাণিত প্রভাবের ভিত্তিতে, এই উদ্যোগটিকে জেলা-পর্যায়ের পৌরসভাগুলোতেও সম্প্রসারিত করা হবে।"
তিনি আরও বলেন, "চলমান পর্যায়ে বগুড়া পৌরসভায় রাজস্বে ৩৭% বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি সারা দেশে অনুকরণীয় মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।"
পৌরসভার কর্মক্ষমতা উন্নত করার ক্ষেত্রে পৌর সক্ষমতা সূচক (Municipal Capacity Index - MCI) এর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি মন্তব্য করেন: "এমসিআই (MCI) সূচকগুলো কর্মক্ষমতা-ভিত্তিক সম্পদ বরাদ্দকে দিকনির্দেশনা দেবে এবং অংশগ্রহণকারী পৌরসভাগুলোর মধ্যে একটি স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা তৈরি করবে। শক্তিশালী স্থানীয় অর্থনীতিগুলোই চূড়ান্তভাবে জাতীয় অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।"
সুইসকন্ট্যাক্ট মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, ব্যবসায়িক পরিবেশের সহজীকরণ এবং টেকসই অর্থনীতি গঠনে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী ৪০টি দেশে কাজ করছে, উল্লেখ করে সুইসকন্ট্যাক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হেলাল হোসেন বলেন, “প্রবৃদ্ধি প্রকল্পের মাধ্যমে পৌর নেতৃত্বের সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে আমাদের নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম ইতোমধ্যে সুস্পষ্ট ও টেকসই পরিবর্তন এনেছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন সম্ভব বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
সেমিনারের সঙ্গে একটি প্রদর্শনী আয়োজন করে কক্সবাজার পৌরসভা, যেখানে উন্নয়নমূলক উদ্যোগ এবং প্রবৃদ্ধি (PRABRIDDHI) প্রকল্পের বিভিন্ন অর্জন তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীরা ওয়ান-স্টপ সার্ভিস বুথে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ও হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের সহজ প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা পান।
সেমিনার শেষে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু হয়। এতে স্থানীয় চ্যালেঞ্জ শনাক্ত করা, অর্থনৈতিক সুযোগ খুঁজে বের করা এবং এলইডি পরিকল্পনা তৈরির বিষয়ে অংশগ্রহণকারীরা কাজ করেন। আঞ্চলিক এই কার্যক্রম শেষ হয় সংশ্লিষ্ট পৌর নেতৃত্ব, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন অংশীদারদের নতুন অঙ্গীকারের মাধ্যমে—সফল এলইডি (LED) মডেল আরও সম্প্রসারণ এবং সারা দেশে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন এগিয়ে নিতে সবাই একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
