চার মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষে ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হলো শক্তিকন্যা লিডারশিপ কোহর্ট ২০২৫। ২০২২ সাল থেকে এ উদ্যোগটি দেশের STEM ব্যাকগ্রাউন্ডের তরুণীদের সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
শক্তিকন্যা উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জার্মান ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এবং বিশ্বব্যাংকের সহায়তায়, এবং জিআইজেড বাংলাদেশ ও ডেভটেল পার্টনার্স এর যৌথ ব্যবস্থাপনায়। এ বছরের কোহর্টে ৭৫ জন অংশগ্রহণকারী নেতৃত্ব, টেকসই জ্বালানি প্রযুক্তি, নীতি-জ্ঞান, সবুজ দক্ষতা ও পেশাগত উন্নয়ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। পাশাপাশি তারা অংশ নেন মেন্টরশিপ সেশন, ফিল্ড ভিজিট, আবাসিক বুটক্যাম্প এবং উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা “সল্ভ-এ-থন”-এ।
সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ ডেলিগেশন, জার্মান দূতাবাস, বিশ্বব্যাংক এবং বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা। বক্তারা জ্বালানি খাতে জেন্ডার-সমতা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে বাংলাদেশের নিম্ন-কার্বন উন্নয়নে নারীদের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও ডেলিগেশনের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন শক্তিকন্যার সঙ্গে কাজ করতে পেরে গর্বিত। শক্তিকন্যা নারীদের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আরও সমতাপূর্ণ, আরও উদ্ভাবনী, আরও সমৃদ্ধ ও আরও টেকসই বাংলাদেশের পথে অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করছে শক্তিকন্যা।
বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বলেন, আমরা জ্বালানি খাতে নারীবান্ধব রূপান্তরের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ, যে রূপান্তরে নারীরা সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে বসবে, জাতীয় অগ্রাধিকার নির্ধারণে নেতৃত্ব দেবে এবং সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করবে।
দিনের শুরুতে কোহর্টের অংশগ্রহণকারীরা সল্ভ-এ-থনে তাদের উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করেন। নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসার, সার্কুলার ইকোনমি, জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মশক্তি নিয়ে সৃজনশীল সমাধানের জন্য নির্বাচিত দলগুলোকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এ ছাড়া সাতটি প্রতিষ্ঠান তৃতীয় কোহর্টের নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীদের ইন্টার্নশিপ অফার প্রদান করেছে, যা নারীদের টেকসই জ্বালানি খাতে ক্যারিয়ার গঠনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে।
অনুষ্ঠানে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল), বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ), বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা টেকসই জ্বালানি ক্ষেত্রে নারীদের সুযোগ সম্প্রসারণে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
