জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় চাঁদা না পেয়ে গ্রীন বায়োটেকনোলজি নামে একটি কারখানায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় ফাঁকা গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করেছে মেলান্দহ থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার নাংলা ইউনিয়নের মুন্সী নাংলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
আটকরা হলেন- উপজেলার নাংলা ইউনিয়নের মুন্সী নাংলা গ্রামের জিয়াউর রহমানের মেয়ে জান্নাতুল হুমায়রা জেমি (২২), বরগুনা জেলার মরখালী গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে মো. মাসুম (২৫), মেলান্দহ উপজেলার বাসুদেবপুর গ্রামের মোহাম্মদ সানি (২৬), একই উপজেলার বয়রাডাঙ্গা গ্রামের মো. শাহজাহানের ছেলে লিখন আহমেদ সাকিব (২৭) ও একই গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে মোশারফ মিয়া।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ভোরে জান্নাতুল হুমায়রা জেমি ও সামিউল ইসলাম জাম্বুর নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রধারী একদল সন্ত্রাসী গ্রীন বায়োটেকনোলজি কারখানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ও দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করে। পরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কারখানায় হামলা চালায়। গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে গ্রামবাসীরা এগিয়ে যান। পরে গ্রামবাসী দুষ্কৃতিকারীদের ধাওয়া দেন। এ সময় তিনজনকে হাতেনাতে আটক করেন এবং বাকিরা পালিয়ে যান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনসহ পাঁচজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। এর আগেও একাধিকবার ওই কারখানায় চাঁদা না পেয়ে সন্ত্রাসীরা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের চেষ্টা করে।
গ্রীন বায়োটেকনোলজির ম্যানেজার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পাঁচ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে আজ (মঙ্গলবার) ভোরে পরিকল্পিতভাবে ওই চিহ্নিত সস্ত্রাসীরা রড, হকিস্টিক, পেট্রলবোমা, ককটেল ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে কারখানায় হামলা চালিয়েছিল। প্রথমে তারা দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনায়। পরে কারখানার গেটেও ভাঙচুর করে। এর আগেও এই দলটিই চাঁদার দাবিতে হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় আমরা মামলা দায়ের করবো।’
তিনি আর বলেন, ‘আমাদের এই প্রতিষ্ঠানটি শুধু মেলান্দহ নয়, বরং জামালপুর জেলার গ্রামীণ অর্থনীতি তথা সারাদেশেও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। শত শত পরিবার এই কারখানার আয়ের ওপর নির্ভরশীল। অথচ কিছু দুষ্কৃতিকারীর অব্যাহত সন্ত্রাসে এই শিল্প কারখানা এখন ধ্বংসের হুমকির মুখে পড়েছে। এই ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ যদি দ্রুত বন্ধ না করা হয়। বড় বড় উদ্যোক্তারা উপজেলা শহরে এই ধরণের প্রতিষ্ঠান করা থেকে নিরুৎসাহিত হবে।’
মেলান্দহ থানার ওসি শফিকুল ইসলাস বলেন, অস্ত্রধারী একদল চিহ্নিত দুষ্কৃতিকারী ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ওই কারখানার হামলার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল ও এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করেছি। আটকের সময় দুষ্কৃতিকারীরা পুলিশের কাজেও বাঁধার সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে।
