টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খানের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
একইসঙ্গে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড সংসদের আহ্বায়ককে অপমান, দলের ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়নসহ নানা অভিযোগ এনে দলটির দুই শতাধিক নেতা পদত্যাগ করেছেন বলে দাবি করেছেন দলের একাংশের নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) ইত্তেফাক ডিজিটালতে এ তথ্য জানিয়েছেন সম্প্রতি অব্যাহতি পাওয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান সাজু ও সদ্য পদত্যাগকারী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল বাছেদ মাস্টার।
সদ্য পদত্যাগ করা এই দুই নেতার দাবি, সোমবার থেকে মঙ্গলবার বিকেল বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের দুই শতাধিক পদধারী নেতা তাদের কাছে এ পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। যেখানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা রয়েছেন।
যারা পদত্যাগ করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- সম্প্রতি অব্যাহতি পাওয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান সাজু, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল বাছেদ মাস্টার, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান, বিএনপির সদস্য আশরাফুল আলম, গজারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ, বহুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লতিফ মিয়া, গজারিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব মো. বিপ্লব, গজারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব মো. মজিবর ফকির, গজারিয়া ইউনিয়ন ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ, গজারিয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মো. রবিউল আউয়াল, দাড়িয়াপুর ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাজিদুর রহমান।
বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা বলছেন, ওই আসনে আওয়ামী লীগের ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলক ভালো।
এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। এ কারণে আহমেদ আযম খান নির্বাচনে তাদের ভোট টানতে উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের সঙ্গে কয়েক দফা গোপন বৈঠক করেছেন। দলীয় বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা ও সভা-সমাবেশে তারা (আওয়ামী লীগ) সামনের সারিতে বসছেন। কেউ কেউ বক্তব্য দিচ্ছেন। এদের অধিকাংশ নেতার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের ওপর হামলার অভিযোগে মামলাও আছে।
পদত্যাগকারী নেতাদের দাবি, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড সংসদের আহ্বায়ক খালেক মন্ডলকে অপমান, দলের ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন, মনোনয়ন বাতিলের দাবি এবং আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করায় তারা পদত্যাগ করেছেন।
পদত্যাগ প্রসঙ্গে সখীপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল বাছেদ বলেন, কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করছি আযম খান দলীয় নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে ভোট পাওয়ার আশায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুরুত্ব বেশি দিচ্ছেন। তাদের সামনের সারিতে চেয়ার দিচ্ছেন। এ ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান, দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করছেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে নেতা আমাদের বহিষ্কারের হুমকি দিচ্ছেন। আমরা দলের আদর্শহীন আহমেদ আযম খানের মনোনয়ন বাতিল চাই। পাশাপাশি দলের আদর্শের ও নীতিবান ও ক্লিন ইমেজের নেতাকে এ আসনে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
শাহজাহান সাজু পদত্যাগ করে তার ফেসবুকে স্ট্যাটাসে বলেন, আযম খান গত বুধবার টাঙ্গাইল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক খালেক মন্ডলকে হুমকি ও গালাগাল করেছেন। গত রোববার রাতে মুক্তিযুদ্ধের ৫৪ বছর পর হঠাৎ নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রচার করেছেন। গত ১৭ বছর দলের জন্য জেল জুলুম খেটেছি। আওয়ামী লীগের নির্যাতন সহ্য করেছি। তিনি সেই স্বৈরাচারের দোসর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করছেন। তাদের সামনের সারিতে স্থান দিচ্ছেন। নেতার এসব কর্মকাণ্ডে আমরা অপমান বোধ করছি। আমরা মস্তিষ্ক বিকৃতি আহমেদ আযম খানের দলীয় মনোনয়ন বাতিল দাবি করছি। তা না হলে আজকালের মধ্যে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের আরও বিপুল সংখ্যক পদধারী নেতা সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগ করবেন। ইতোমধ্যে দুই শতাধিক পদধারী নেতা আমার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

