ইরাকে নারীদের জীবন এখন এমনিতেই বেশ কঠিন। জাতিসংঘ বলছে, দেশের মোট নারীদের প্রায় অর্ধেকই কোনো না কোনোভাবে সহিংসতার শিকার হয়েছেন। সরকার এসব নারীকে রক্ষা করতে পারছে না। গত ১৫ বছর ধরে সহিংসতার শিকার অনেক নারীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে আসছেন ইয়ানার মোহাম্মদ নামে এক নারী ইরাকের এসব আশ্রয়কেন্দ্রে দিন যাপন করছেন, তারা জানেন কতটা ঝুঁকির মধ্যে তারা রয়েছেন।
ইয়ানার মোহাম্মদ বলছিলেন, ‘আমরা যেসব নারীকে আশ্রয় দেই তাদের মধ্যে অনেককেই পরিবারের সম্মান রক্ষার জন্য হত্যা করার চেষ্টা হয়েছে। নারী পাচারকারী, কিংবা যৌনকর্মী হিসেবে তাদের কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘অনেকেই পরিবারের ভেতরে সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছেন। আমরা এদের রক্ষা করার চেষ্টা করছি।’
কিন্তু ইরাকে নারীদের এই আশ্রয়-কেন্দ্রগুলোকে গোপন রাখতে হচ্ছে। ইয়ানার বলেন, আশ্রয় কেন্দ্রগুলোকে অবশ্যই গোপন রাখতে হবে। তার কারণ, যারা নারীদের ওপর নির্যাতন চালায়, তারা প্রায়ই তাদের অনুসরণ করার চেষ্টা চালায়। তিনি বলেন, ‘তারা এদের অপহরণ করতে চায়। হত্যা করতে চায়। আর অন্যদিকে সরকারের হাত থেকেও এদের রক্ষা করতে হবে। সরকার বলে আমাদের এই আশ্রয়কেন্দ্রগুলো অবৈধ।’
বাগদাদে এই ধরনের গোপন নারী আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে চারটি। এই আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পরিচালনা করেন যেসব নারী, তারা নিজেরাও একসময় সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে মোট ৫২ নারী বাস করছেন। এছাড়া গত পাঁচ বছর ধরে অর্গানাইজেশন ফর দি উইমেন্স ফ্রিডম ইন ইরাক নামের একটি প্রতিষ্ঠানটি প্রায় এক হাজার মহিলাকে নিরাপদ আশ্রয় দিয়ে সাহায্য করেছে। কিন্তু ইরাকে যেসব নারী মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন, এই সংখ্যা তার তুলনায় খুবই নগণ্য। বেঁচে থাকার জন্য তাদের এই লড়াই আসলে প্রতিদিনকার লড়াই। খবর বিবিসি বাংলার
০
