মাধবদীতে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে হত্যা

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৯, ২২:০০

মাধবদীর শেখেরচর ফুলতলায় স্বামী-শাশুড়ি মিলে হত্যা করেছে এক গৃহবধূকে।এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ওই গৃহবধূর নাম মনি (২৫)। তিনি ফুলতার জনু মিয়ার ছেলে রোবেল রাজীর স্ত্রী। প্রতিবেশীরা জানায়, গত ২৯ জুলাই রাতে তার স্ত্রীর মধ্যে গভীর রাত পর্যন্ত ঝগড়া হয়। সকালে পড়শিরা জানতে পারে মনি আত্মহত্যা করেছে। 

খবর পেয়ে শেখেরচর ফাড়ির পুলিশ এসে মনির লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যার কোন নমুনা তারা দেখেনি। সন্ধ্যায় লাশ বাড়িতে আনার পর মনির স্বামীকে পুলিশ আটক করলে সে স্বীকার করে সে তার স্ত্রী মনিকে মাথায় ও তল পেটে লাথি দিয়ে হত্যা করেছে।

৩১ জুলাই ঘটনাস্থলে গেলে প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিহত মনির সঙ্গে রাজীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে রাজী অবৈধভাবে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এতে মনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে মনি তাকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। রাজী কৌশলে বারবার মনিকে এড়িয়ে যায়।

তিন মাস একইভাবে মনিদের ঘরে রাজী এসে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মনিকে জড়িয়ে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করলে মনির চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে রাজীকে আটক করে। রাজীর সম্মতিক্রমে তাদের বিয়ে দিয়ে দেয়। এ বিয়ের পর থেকেই রাজী ও তার মা নানাভাবে মনিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলো।

ঘটনার রাতে ও গভীর রাত পর্যন্ত ঝগড়ার পর রাজী মনির পেটের সন্তান নষ্ট করার কথা বললে মনি রাজী হয় না। তখন তার তলপেটে সজোরে লাথি দেয় রাজী। পান গুড়া করার লোহার রড মনির মাথায় ছুড়ে মারে। তার মাথা ও কান রক্তাক্ত জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়।

সকালে পুলিশ এসে রোবেল ওরফে রাজীকে আটক করে। উপস্থিত লোকজনের সামনে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজী এসব তথ্য দেয় বলে স্থানীয়রা জানায়। মনি নিহত হওয়ার পর রাজীর মা ও তার ভাই শাহীন ঘরের ধর্ণার সঙ্গে মনির লাশ দড়িতে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার করে।

আরও পড়ুন: বরগুনায় রিফাত হত্যা মামলার গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে হাজির

এসব তথ্য দিয়ে আশপাশের লোকজন মনি হত্যার সঠিক তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে। কারণ এ রাজী খুব দুর্ধর্ষ  এবং পূর্বে ও পাশের বাড়ির কালু মিয়ার ছেলেসহ বেশ কয়েকজনকে ছুরিকাঘাতে আহত করেছে। এসব ব্যাপারে অনেক সালিশ, বিচারও হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ইত্তেফাক/নূহু