‘এভাবে চললে মাইনাস-ওয়ান নয়, মাইনাস-এভরিওয়ান হয়ে যাবে’

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৫০

পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর)-এর মহাপরিচালক লে. জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সেনাবাহিনীবিরোধী বক্তব্য তৈরি ও ছড়িয়ে দিচ্ছেন, যা রাজনীতির সীমানা ছাড়িয়ে এখন ‘জাতীয় নিরাপত্তার হুমকিতে’ পরিণত হয়েছে।

তার এই মন্তব্যকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘হাস্যকর’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। দলটি বলেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কোনোভাবেই ‘জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি’ নন। একইসঙ্গে সাম্প্রতিক সাংবিধানিক সংশোধনী পাসের পর দেশটিতে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছে পিটিআই।

পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গোহর আলী ডিজি আইএসপিআরের মন্তব্যকে ‘অনুচিত ও ভুল’ আখ্যা দিয়ে বলেন, একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব ও খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন মন্তব্য গণতন্ত্রের জন্য দুর্ভাগ্যজনক।

তিনি বলেন, ‘আমাদের শত্রুরা চায় আমরা একে অপরের বিরুদ্ধে কথা বলি।’

গোহর অভিযোগ করেন, কিছু পক্ষ প্রধান রাজনৈতিক দল ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চাইছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘বড় ধরনের বিপর্যয় শুরু হয় কয়েকটি অনুপযুক্ত কথার মাধ্যমেই।’ তাই অহং ত্যাগ করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও ইতিবাচক পথে এগোনোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, এখনো পরিস্থিতির উন্নতির সুযোগ রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য ভাষার তীব্রতা কমাতে হবে। একইসঙ্গে ইমরান খানের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকে যেন কোনো বাধা না দেওয়া হয় এবং তার বোনদের সঙ্গে সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে যেন কোনো রাজনীতি না হয়—সেটিও তিনি উল্লেখ করেন।

গোহর বলেন, দেশ উন্নতি ও অগ্রগতি পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু বর্তমান উত্তেজনা চলতে থাকলে ‘এটা মাইনাস-ওয়ান নয়, মাইনাস-এভরিওয়ানে’ গিয়ে ঠেকবে—যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই গোহর বলেন, আজকের ব্রিফিংটি ‘একটু আলাদা’ হবে এবং প্রতিক্রিয়া দেওয়ার পরিবর্তে জনসাধারণকে সত্য জানানোই এর উদ্দেশ্য।

তিনি দাবি করেন, পিটিআই দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল, আর দলটির নেতা ইমরান খানের প্রতি ৭০ শতাংশ মানুষের সমর্থন রয়েছে। ‘আমাদের ওপর যা ঘটেছে তা জনগণকে জানানো জরুরি। ১৮০ আসন থেকে আমরা নেমে এলাম ৯১-এ, এখন ৭৬-এ। সংরক্ষিত আসন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। নারী-শিশুর ওপরও সহিংসতা হয়েছে। এই অবিচারের আলাদা ইতিহাস আছে।’

তিনি আরও বলেন, দলটি গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থেই টিকে আছে। পিটিআইয়ের অবস্থান সব সময় গণতন্ত্র, শান্তি, আইনের শাসন ও রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ইমরান খানও সবসময় বলেছেন—পাকিস্তান ও তার সেনাবাহিনী জনগণেরই।

তিনি বলেন, গত এক বছরে বহু প্রতিকূলতার মধ্যেও দলটি জনগণ ও সেনাবাহিনীর পাশে থেকেছে এবং তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ২৬তম ও ২৭তম সংশোধনী পাসের পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে, আর গতকালের সংবাদ সম্মেলন ছিল ‘গভীরভাবে হতাশাজনক’।

ইমরান খানের মামলার বিলম্বিত শুনানির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা শুরু করেছিলাম তার মুক্তির দাবি দিয়ে। এখন এসে দাঁড়িয়েছে—তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতির জন্য অনুরোধ জানাতে।’

শেষে তিনি বলেন, ‘আমরা যা সহ্য করেছি তা দেশের গণতন্ত্রের জন্য। কিন্তু যদি এই অবস্থাই অব্যাহত থাকে, যদি আমাদের প্রতি আচরণ একই থাকে—তাহলে সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা গণতন্ত্রেরই হবে।’

ইত্তেফাক/এনএন