শিখবো সবাই প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা 

একীভূত শিক্ষা কেবল নীতিগত অঙ্গিকার নয়, এটি দায়িত্ব

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৮:৪৬

প্রতিটি শিশু, সক্ষমতা নির্বিশেষে, শিক্ষার সমান সুযোগ পাওয়ার অধিকারী। সমাজসেবা অধিদপ্তর, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয়কে গুরুতর প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার নিশ্চয়তা দিতে হবে। এক্ষেত্রে একীভূত শিক্ষা শুধু নীতিগত অঙ্গীকার নয়—এটি একটি দায়িত্ব।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাড়ি থেকে বিদ্যালয়–একীভূতকরণের উদযাপন, শিখবো সবাই’ প্রকল্পের সমাপনী ও শিক্ষণ বিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘ইনক্লুসিভ ফিউচার’, ‘ইউকেএআইডি’, ‘এডিডি ইন্টারন্যাশনাল’, ‘সেন্স ইন্টারন্যাশনাল’, ‘সাইটসেভার্স’ যৌথভাবে এর আয়োজন করে।

২০২২ সালের এপ্রিল থেকে ‘শিখবো সবাই’ প্রকল্পটি সাইটসেভারর্সের নেতৃত্বে এডিডি ইন্টারন্যাশনাল ও সেন্স ইন্টারন্যাশনালের অংশীদারিত্বে এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হয়েছে। যুক্তরাজ্যের ‘ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)’ এই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে। নরসিংদী ও সিরাজগঞ্জ জেলার তিনটি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই প্রকল্প পরিচালিত হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সাইদুর রহমান খান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ব্রিটিশ হাই কমিশনের ডেভেলপমেন্ট কাউন্সেলর মার্টিন ডওসন, সাইটসেভার্স বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আমৃতা রেজিনা রোজারিও, সাইটসেভারর্সের গ্লোবাল টেকনিক্যাল লিড হামিশ হিগিনসন প্রমুখ। এছাড়া সেখানে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, ব্রিটিশ হাই কমিশন, জাতিসংঘ সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, সিভিল সোসাইটি সংগঠন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনের (ওপিডি) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সাইদুর রহমান খান বলেন, একীভূত শিক্ষা শুধু নীতিগত অঙ্গীকার নয়–এটি একটি দায়িত্ব। সমাজসেবা অধিদপ্তর, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয়কে গুরুতর প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার নিশ্চয়তা দিতে হবে। 

মার্টিন ডওসন বলেন, শিক্ষা সুযোগ সৃষ্টি করে। বাংলাদেশে স্কুলগামী প্রতিবন্ধী শিশুদের বেশিরভাগই স্কুলে যায় না, যা হাজারো স্বপ্নকে বাঁধাগ্রস্ত করেছে। এই প্রকল্প সেই বাস্তবতা পরিবর্তনের জন্য কাজ করেছে। 

আমৃতা রেজিনা রোজারিও বলেন, এই প্রকল্প দেখিয়েছে যে যখন কমিউনিটি, স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং নীতিনির্ধারকরা একসঙ্গে কাজ করে, তখন শিক্ষার প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব। বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্তি শিক্ষার নিশ্চয়তার দিকে যাত্রা, যা শিখবো সবাই প্রকল্প প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহায়তায় অর্জন করেছে। এই অগ্রগতি ধরে রাখতে, প্রকল্পের শিক্ষণগুলোকে ‘প্রাইমারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (পিইডিপি)’ মতো নীতি ও কৌশলে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যাতে কোনো শিশু পিছিয়ে না থাকে।

সভাপতির বক্তব্যে আবু নূর শামসুজ্জামান বলেন, প্রতিটি শিশু, সক্ষমতা নির্বিশেষে, শিক্ষার সমান সুযোগ পাওয়ার অধিকারী। আমাদের একীভূত শিক্ষা প্রচেষ্টা পিইডিপি–২ দিয়ে শুরু হয়েছিল এবং শিক্ষার্থীদের স্কুলে আনার গুরুত্ব তুলে ধরেছিল। বর্তমানে আমরা পিইডিপি–৪ বাস্তবায়ন করছি যেখানে একটি নিবেদিত একীভূত শিক্ষা সেল রয়েছে। উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, তবে এখনও অনেক পথ বাকি।

 
ইত্তেফাক/এসএএস