প্রিয় কচি-কাঁচা বন্ধুরা, বর্ষার বৃষ্টিভেজা শুভেচ্ছা নাও। গত ৭ জুলাই ২০১৯ দৈনিক ইত্তেফাকের আয়োজনে ঢাকার মিরপুর ইংলিশ ভার্সন স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত হয় লেখা ও আঁকা প্রতিযোগিতা। লেখা ও আঁকার বিষয় ছিল ‘বাংলার বর্ষা’। এতে অংশ নেয় তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণির দুই শত চার জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্য থেকে নির্বাচিত লেখা ও আঁকা নিয়েই এবারের আয়োজন—
স্বপ্নের বর্ষাকাল ফিরে পেতে চাই
বুশরা কবির
গ্রীষ্মকালের গরমে যখন জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ে, তখন শান্তির পরশ নিয়ে আসে বর্ষা। বর্ষাকালে খাল-বিল, নদী-নালা পানিতে ভরে ওঠে। গাছপালা, প্রকৃতি প্রাণ ফিরে পায়। বর্ষাকালে অনেক ধরনের ফুল ফোটে। যেমন—কদম, কেয়া, জুঁই, বেলি ইত্যাদি। বর্ষাকালে প্রায় সময়ে ইলশেগুঁড়ি ও মুষলধারে বৃষ্টি হয়। গাছের পাতায় টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ শোনা, বৃষ্টির ফোঁটা হাতে ধরা কিংবা বৃষ্টিতে ভেজা, দাদুবাড়ির মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে দূরের ফসলের খেতগুলো ভিজতে দেখা, রাতে ব্যাঙের ডাক, পুকুরে বৃষ্টির ফোঁটার মিলিয়ে যাওয়া—এসব আমার খুব ভালো লাগে। ভালো লাগে জানালার পাশে বসে কবিতা লিখতে আর বর্ষার প্রকৃতি দেখতে।
কিন্তু আজকাল বর্ষাকাল আর আমার স্বপ্নের মতো নেই। পরিবেশ দূষণের কারণে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। যে কারণে বৃষ্টি বেশি সময় স্থায়ী থাকে না। অনেক সময় অধিক বৃষ্টির কারণে বন্যা হয়। বন্যায় বাড়িঘর গবাদিপশু ভেসে যায়, খেতের ফসল নষ্ট হয়ে যায়। তবুও বর্ষা আমার প্রিয় ঋতু। বর্ষাকালকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পরিবেশ দূষণ রোধ করতে হবে। এজন্য সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। আমাদের স্বপ্নের বর্ষাকাল হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা আমাদের স্বপ্নের বর্ষাকাল ফিরে পেতে চাই।
সপ্তম শ্রেণি
বর্ষা আছে বলেই এত সবুজের সমারোহ
সুমাইয়া বিনতে মমতাজ
গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহের পর প্রকৃতিতে শান্তির পরশ নিয়ে আসে বর্ষা। দিনরাত অবিরাম বৃষ্টির ধারা প্রকৃতিকে করে তোলে সুন্দর ও মনোরম। বৃষ্টির পানি পেয়ে ব্যাঙ ডাকে—ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ। বর্ষাকালে আকাশে কালো মেঘ দেখা যায়। এসময় আকাশে বিদ্যুত্ চমকায়। প্রচণ্ড বৃষ্টিতে নদীনালা ও খালবিল পানিতে ভরে যায়। এ সময় মাছের বংশবৃদ্ধি হয়। বাংলাদেশের পানির চাহিদার ৭০ ভাগ পূরণ হয় বর্ষাকালে। নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জলপথে যাতায়াত সহজ হয়। তবে অধিক বৃষ্টির ফলে বন্যার সৃষ্টি হয়। বন্যায় অনেক ঘরবাড়ি ডুবে যায়, অনেক মানুষ মারা যায়, দেশের অনেক ক্ষতি হয়।
বর্ষায় আবহাওয়া বেশ ঠান্ডা থাকে। নৌকায় করে জেলেরা মাছ ধরে। বর্ষায় বাড়ির ছাদে বৃষ্টিতে ভিজতে আমার খুব ভালো লাগে। বর্ষাকালে জাম, পেয়ারা, জামরুল, ইত্যাদি ফল পাওয়া যায়। গাছে গাছে জুঁই, কেয়া, কদম ফুল ফোটে। বর্ষার পানিতে ময়লা-আবর্জনা ধুয়ে যায়। পরিবেশ খুব সুন্দর থাকে। বর্ষা আছে বলেই বাংলাদেশে এত সবুজের সমারোহ।
ষষ্ঠ শ্রেণি
টাপুর টুপুর বৃষ্টির শব্দ
ভালো লাগে
মোসায়েব ইবনে মাসুদ
বর্ষা একটি শান্তির ঋতু। বৃষ্টি হওয়ার আগে যখন আকাশে কালো মেঘ ভেসে বেড়ায় তখনই বোঝা যায়, বৃষ্টি হবে। বৃষ্টি শুরু হলে বাইরের মানুষগুলো ছোটাছুটি করে বৃষ্টির হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য। যখন ভারীবর্ষণ হয় তখন মনটা আনন্দে নেচে ওঠে। বৃষ্টির দিনে খিচুরি খেতে আমার বেশ ভালো লাগে। বৃষ্টিতে ভিজে ফুটবল খেলা খুবই মজা। মেঘলা দিনে ঘরে বসে বন্ধুর সঙ্গে খেলা করার আনন্দই আলাদা। গ্রামের বৃষ্টি আমার কাছে খুব আকর্ষণীয়। টিনের চালে যখন টাপুর টুপুর বৃষ্টি পড়ে, সেই শব্দ শুনতে অনেক ভালো লাগে। আবার বৃষ্টির সময় পুকুর সুন্দর এক রূপ ধারণ করে। সেই দৃশ্যটি আমার কাছে অনেক আকর্ষণীয়। বর্ষার রাতে হিমেল বাতাস বয়ে যায়, এতে ঘুম ভালো হয়। আর বৃষ্টি শেষ হলে সকালবেলার পরিবেশটা খুব ঝকঝকে লাগে। বর্ষার উপকারিতার পাশাপাশি অপকারিতাও আছে। যেমন—ভারীবর্ষণের কারণে রাস্তাঘাটে পানি জমে। মানুষের যাতায়াত করতে অসুবিধা হয়। তাছাড়া অতিবৃষ্টির কারণে ফসল ডুবে যাওয়ায় কৃষকের অনেক ক্ষতি হয়। তারপরও বর্ষা একটি সুন্দর ঋতু।
ষষ্ঠ শ্রেণি
বর্ষা মরুভূমি হওয়া থেকে
রক্ষা করছে
জারা রিয়াজ খান
বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। তার মধ্যে বর্ষাকাল একটি। বর্ষা আষাঢ় ও শ্রাবণ এই দুই মাস মিলে হয়। বর্ষাকাল অনেকেরই প্রিয় ঋতু হয়তো। তেমনি বর্ষা আমারও অনেক পছন্দের ঋতু। মানুষ যখন অসহ্য গরমে ছটফট করে তখনই শান্তির পরশ নিয়ে আসে বর্ষা। বর্ষার বৃষ্টিতে চারপাশের শুকনো পরিবেশ সতেজ ও সবুজ হয়ে ওঠে। নদী-নালা, খাল-বিল পানিতে ভরে ওঠে। মাছরা তাদের জীবন ফিরে পায়। ব্যাঙরা মুখ ফুলিয়ে গান গায়। বেশি বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তাঘাট কাদায় ভরে যায়। এ কারণে চলাচল করা কষ্টের ব্যাপার হয়ে ওঠে। গ্রামাঞ্চলে বর্ষায় ভরা পুকুরে কিংবা নদীতে ছেলেমেয়েরা সাঁতার কাটে। কিন্তু শহরের পরিবেশ দুর্ভাগ্যক্রমে গ্রামের থেকে আলাদা। গাড়িঘোড়া আর কলকারখানার কালো ধোঁয়ার কারণে শহরের আবহাওয়া খারাপ থাকে। শহরে ঋতুবৈচিত্র্য টেরই পাওয়া যায় না।
বর্ষার দিনগুলো ছোটদের জন্য অনেক মজার। কারণ বৃষ্টির কারণে অনেক সময় তাদের স্কুলে যেতে হয় না। অনেক বৃষ্টি হলে মাঝে মাঝে আকাশে রংধনু দেখা যায়। অবশ্য বর্ষাকালে সবাই একটু অলস হয়ে যায়। কারণ বৃষ্টির দিনে ঘুম থেকে উঠতে ইচ্ছা করে না। বর্ষাকালে গ্রামের মানুষদের অনেক সমস্যা হয়। কারণ অধিক বৃষ্টির কারণে জমির ফসল নষ্ট হয়ে যায়। আবার কখনো কখনো শিলাবৃষ্টির কারণেও ফসল নষ্ট হয়। গ্রামে বর্ষায় ঘনঘন বিদ্যুত্ চলে যায়। বর্ষায় প্রকৃতি অনেক সজীব থাকে। বর্ষার পানি যখন চলে যায়, তখন রাস্তাঘাটের ময়লা-আবর্জনা ধুয়ে নিয়ে যায়, ফলে পরিবেশ সুন্দর থাকে। বর্ষাকাল আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষাকাল বাংলাদেশকে মরুভূমি হওয়া থেকে রক্ষা করছে।
সপ্তম শ্রেণি
বৃষ্টিতে ভিজতে ভালো লাগে
আব্দুল্লাহ আল-জাদিদ
বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরত্, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত। আষাঢ় ও শ্রাবণ এই দুই মাস মিলে বর্ষাকাল। বর্ষাকালে কখনো হালকা বৃষ্টি হয় তো কখনো এত বৃষ্টি হয় যে, বন্যা হয়ে যায়। বন্যায় বাড়িঘর, গবাদিপশু ভেসে যায়, কৃষকদের ফসল নষ্ট হয়ে যায়। বর্ষাকালে বিলে ঝিলে শাপলা ফুল ফোটে। শাপলা আমাদের জাতীয় ফুল।
বর্ষাকালে মানুষ ছাতা নিয়ে বাইরে যায়। এসময় মাঠঘাট ভেজা থাকে। বৃষ্টিতে ভিজতে আমার ভালো লাগে। কিন্তু বর্ষার প্রথম কয়েকদিন বৃষ্টিতে না ভেজাই ভালো। আবহাওয়া ঠান্ডা থাকে বলে রাতের বেলা ভালো ঘুম হয়। এজন্যই আমার বর্ষাকাল এত পছন্দ।
পঞ্চম শ্রেণি
আমার দেখা গ্রামের বর্ষা
ফকরুল ইসলাম আল-ওয়ালিদ
বড়দের কাছ থেকে আমরা আমাদের দেশের বর্ষাকালের অনেক কথা শুনেছি। এবার আমি আমার গল্প বলব— একবার আমি আমাদের গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেখানে আমি আমার নানু, নানা, দাদু, দাদার সঙ্গে অনেক মজা করেছিলাম। তখন ছিল বর্ষাকাল। হঠাত্ বৃষ্টি শুরু হলো। আমি আমার মামাত ভাইবোনদের সঙ্গে বৃষ্টিতে ভিজছিলাম। অনেকক্ষণ পরে দেখি, পুকুরের পাড় উপচে পানি বেরিয়ে যাচ্ছে। এরপর একটানা এমনই বৃষ্টি হয়েছে যে, আমার নানুবাড়ির ঘরের সব জিনিসপত্র পানিতে ভেসে যাচ্ছে। নানু আমাকে বলেন, সবাইকে নিয়ে এখান থেকে চলে যাও। আমি সেখান থেকে আমার মামাত ভাইবোনদের সঙ্গে চলে গেলাম। বৃষ্টির শেষে আমরা এসে দেখি, আমাদের বাড়িতে অনেক পানি জমে ছিল। আমরা মাঠে বৃষ্টিতে ভিজে ফুটবল খেলেছিলাম। সেই দিনগুলো সত্যিই অনেক আনন্দের ছিল।
লেভেল ৫
