নারায়ণগঞ্জে ১ দিনে দুইজন খুন

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৯, ২০:১৯

নারায়ণগঞ্জে ১ দিনে ২টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরের চাষাঢ়ায় কোকের বোতল দিয়ে আঘাত করে কোক সরবরাহকারী তোফাজ্জল হোসেন তপুকে (৫৫) হত্যা করা হয়। একই রাতে শহরের খানপুরে প্রেমিকার ডাকে তার বাসায় এসে প্রেমিক ফয়সাল হোসেন (১৮) খুন হয়। এ দুটি গঠনায় পুলিশ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তোফাজ্জল হোসেন বিভিন্ন দোকানে কোকাকোলা কোম্পানির কোমল পানীয় সাপ্লাই করেন। দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে চাষাঢ়া বালুর মাঠ এলাকার রডের দোকানের কর্মচারী সুমন ও শাহ্জাহান তার কাছে একটি কোক চায়। পরে তোফাজ্জল একটি কোকের বোতল সুমনের দিকে ছুড়ে মারলে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে সুমনের কপালে লাগে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সুমন ও শাহ্জাহান মিলে তোফাজ্জলের বুকে কোক দিয়ে ক্রমাগত আঘাত করতে থাকে। এক পর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তোফাজ্জলকে উদ্ধার নারায়ণগঞ্জ ৩শ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে যায়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অমিত রায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় শাহ্জাহানকে আটক করা হয়েছে। সুমনকে আটকের জন্য অভিযান চলছে। 

অপরদিকে বুধবার দিবাগত রাতে শহরের খানপুরে প্রেমিকার ডাকে তার বাসায় এসে প্রেমিক ফয়সাল হোসেন (১৮) প্রেমিকার বড়া ভাইয়ের পিটুনিতে নিহত হয়। ফয়সাল সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল পশ্চিম এনায়েতনগরের নুরুজ্জামান মিয়ার ছেলে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি খানপুর ব্রাঞ্চরোডে আলতাফ মিয়ার বাড়িতে ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ৫ জনকে আটক করেছে।

আটককৃতরা হলো, প্রেমিকার বড় ভাই মো. আসিফ (২০), সাকিব (১৫), মিলন (১৮), সানজিল (১৭) ও সায়েম (১৮)। নিহত ফয়সাল পেশায় একজন ফ্রিজ মিস্ত্রী ছিলেন।

নিহতের বড় ভাই সজিব হোসেন জানান, বুধবার রাতে প্রেমিকা সামিয়াকে দিয়ে প্রেমিক ফয়সালকে বাড়িতে ডেকে নেন সামিয়ার বড় ভাই আসিফ। এ সময় ফয়সালকে আসিফ তার বোনের মোবাইল ফোনটি ফেরত দিতে বলে। ফয়সাল কথা না বাড়িয়ে মোবাইলটি ফেরত দেয়। আসিফ ঘটনা এখানেই শেষ করতে চায়নি। তার মনে অন্যকিছু ছিল। তাই সে উল্টোপাল্টা কথা বলে ঝগড়া লাগানোর চেষ্টা করে। ফয়সাল প্রেমিকার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলে আসিফ তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে প্রেমিকার অন্য স্বজনরা লাঠিসোটা নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে ফয়সালের ওপর। বেধড়ক পেটাতে থাকে। এ সময় আসিফ ঘটনাকে ‘ছেলেধরা’ গুজব বলে চালিয়ে দিতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

পিটুনীতে ফয়সাল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে প্রেমিকার ভাই আসিফ তার বন্ধুবান্ধবদের ডেকে নেয়। আসিফের বন্ধুরা গুরুতর আহত ফয়সালকে খানপুর ৩শ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক ফয়সালকে মৃত ঘোষণা করে। 

হাসপাতালের চিকিৎসক সেলিনা হোসেন জানিয়েছেন, ‘ছেলেটিকে হাসপাতালে আনার আগেই সে মারা গেছে।’

এদিকে ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে নিহতের মা শিউলী বেগম খানপুর হাসপাতালে ছুটে আসেন। তিনি জানান, দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার পর বাসা থেকে বের হয় ফয়সাল। তবে কোথায় যাচ্ছে সে ব্যাপারে কিছু বলেনি। পরে রাতে তার মৃত্যুর সংবাদ শুনে হাসপাতালে আসেন।

আরও পড়ুন: শিবচরে ডেঙ্গুজ্বরে যুবকের মৃত্যু

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদর মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশন) জয়নাল আবেদীন জানান, তরুণের লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু